ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

লিবিয়ার বন্দিশালায় মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি | মাদারীপুর | প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২৬

অবৈধভাবে ইতালি যাত্রা পথে লিবিয়ায় বন্দিশালায় মারা গেছেন মাদারীপুরের কালকিনির ইয়িলাস হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবক।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে নিহতের পরিবার তার মারা যাবার খবর জানতে পারেন। এরপর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। মরদেহ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।

এর আগে একই দালালের মাধ্যমে ইতালি যাবার পথে ১৮ মার্চ লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে মারা যান ডাসার উপজেলার বিনতিলুক গ্রামের সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার (৩২)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার দক্ষিণ জনারদন্দী গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার। প্রায় তিন বছর আগে ইলিয়াস প্রথমে কাতার যান। একই জেলার ডাসার উপজেলার দক্ষিণ গোপালপুর গ্রামের আলমগীর খন্দকারের ছেলে দালাল হাবিব খন্দকারের (৪২) সহযোগিতায় ইলিয়াস ইতালি যাবার স্বপ্ন দেখেন। কাতার থেকে ইলিয়াস ইতালি যাবার জন্য ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে লিবিয়ায় আসেন। সেখানে আসার পর তাকে বন্দিশালায় রেখে পরিবারের কাজ থেকে কয়েক দফায় ২০ লাখ টাকা নেন। টাকা নেয়ার পরও তাকে ইতালি না দিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতনের এক পর্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পরে ২৩ মার্চ মারা যান ইলিয়াস।

এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে দালালের মাধ্যমে ইলিয়াসের মারা যাবার ঘটনা তার পরিবারের কাছে নিশ্চিত করা হয়। এরপর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। মরদেহ দেশে এনে শেষবারের মতো দেখতে চান নিহতের পরিবার। এদিকে দালাল হাবিব গোপনে বিষয়টি টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইলিয়াস হাওলাদারের বাবা কালাম হাওলাদার বলেন, ছেলে ইতালি যাবে তাই হাবিব দালালের কাছে ২০ লাখ টাকা দিয়েছি। তবুও ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। নির্যাতন করেছে, লিবিয়ার গেমঘরে (বন্দিশালা) বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। এখন দালাল হাবিব টাকা পয়সার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। আমি দালাল হাবিবের বিচার চাই। পাশাপাশি আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে শেষে দেখাটা দেখতে চাই।

এদিকে দালাল হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক যুবককে ইতালি নিয়ে যাবার কথা বলে লিবিয়ার বন্দিশালায় আটকে রেখেছেন।

একই গ্রামের আয়নাল, মিথুনসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লিবিয়ার বন্দিশালায় আটকে থাকা যুবকদের পরিবার জানায়, ইতালি পাঠানোর জন্য দালাল হাবিব আমাদের কাছে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সন্তানরা সেখানে যেতে পারেনি। তারা বেশ কয়েক মাস ধরে লিবিয়ার বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। দালালের বিরুদ্ধে কথা বললে আমাদের সন্তানদের আরও বেশি করে নির্যাতন করা হয়। এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তাই আমরা সন্তানের জীবনের কথা চিন্তা করে মামলা দেওয়া তো দুরের কথা কোনো কথা বা প্রতিবাদও করতে পারছি না।

এর আগে একই দালালের মাধ্যমে ইতালি যাবার পথে ১৮ মার্চ লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে মারা যান ডাসার উপজেলার বিনতিলুক গ্রামের সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার। গত চার মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া যান তিনি। সেখানে তাকে বন্দিশালায় আটকে রেখে দালালচক্র ১২ লাখ টাকা নেন।

নিহত ফারুকের মা মালেকা বেগম বলেন, আমার ছেলে গেমঘরে (বন্দিশালা) বসে মারা গেছেন। দালাল বলেছে ছেলের মরদেহ এনে দিবে। কিন্তু এখনও মরদেহ এনে দেইনি। আমি আমার ছেলেটাকে শেষবারে মতো দেখতে চাই।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, লিবিয়ার গেমঘরে নিহত ইলিয়াস হাওলাদারের বাড়িতে খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে দালালের বিরুদ্ধে মামলা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/আরএইচ/এমএস