ঘুষ ফেরত দিয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিতে হুমকি, এএসআই অবরুদ্ধ
আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে ঘুষ নেওয়ার পর সেই অর্থ ভুক্তভোগীকে ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জহিরুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানার হস্তক্ষেপে সেই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ২টায় নাসিক ১০নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ী স্ট্যান্ড সংলগ্ন চৌধুরীবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
জহিরুল ইসলাম সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানায় কর্মরত। এর আগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালীন সময় ঘুষ আদায় করেছেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইসহক মিয়া নামের এক বৃদ্ধের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগ আনেন জহিরুল ইসলাম। পরে নগদ ১ লাখ টাকা এবং একটি ৩২ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইলফোন নেন। পরে কোনো প্রকার তথ্য প্রমাণ ছাড়া আইন অমান্য করে অর্থ (ঘুষ) আদায় করার দায়ে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এরপরই নড়েচড়ে বসেন পুলিশের সেই কর্মকর্তা। হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ দায়ের পর বেশ কয়েকবার ভুক্তভোগী দারস্থ হয়ে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তার পক্ষে সাক্ষী দেওয়ার জন্য হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ মার্চ তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ম্যানেজের জন্য হুমকিধামকি দিলে স্থানীয়দের জনরোষের সম্মুখীন হন।
ঘটনা সম্পর্কে ভুক্তভোগী ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানিয়ে, গত বছরের ৩ নভেম্বর পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বাসায় এসে বাবাকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে ৫ থেকে ৬টি মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন। সেদিন তিনি আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে আমার বাবার থাকা ছবি দেখিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখান এবং গ্রেফতার এড়াতে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। তখন আমরা মামলার ভয়ে নিরুপায় হয়ে অনেক দর কষাকষির মাধ্যমে বাধ্য হয়ে তাকে নগদ ১ লাখ টাকা দেই। সেই টাকা নেওয়ার একপর্যায়ে তিনি একটি মোবাইল ফোনও দাবি করেন এবং তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর তাকে ৩২ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আইন অমান্য করে আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলে হেডকোয়ার্টারের তদন্ত কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে আমরা বিষয়টি উপস্থাপন করি। এরপরই জহিরুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে কয়েক দফায় দেখা করে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। তিনি দুই দফায় আমাদেরকে ৯০ হাজার টাকা ফেরতও দেন। তবে আজ হঠাৎ এসে বাকি টাকা ফেরতসহ প্রয়োজনে বাড়তি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মিথ্যা বলে উপস্থাপন করার প্রস্তাব করেন। তার এমন প্রস্তাবকে আমরা প্রত্যাখান করলে আমাদের উপর চড়াও হয়ে হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করেন। এরপর একপর্যায়ে স্থানীয়রা এসে ঘটনা সম্পর্কে শুনে তাকে অবরুদ্ধ করেন।
এ বিষয়ের বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি তার স্যারের রুমে অবস্থান করছেন বলে কলটি কেটে দেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেন, ঘুষের বিষয়টি আমার জানা নেই। আজ ফতুল্লার এক এএসআইয়ের সঙ্গে স্থানীয়দের ঝামেলা সৃষ্টি হলে আমাদের থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থল পৌঁছে উভয়ের সঙ্গে বসে ওই কর্মকর্তাকে নিয়ে বেড়িয়ে আসেন। জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় থাকা অবস্থায় আমি ছিলাম না এবং ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পরিদর্শনকে (তদন্ত) একাধিকবার ফোন করা সত্বেও তারা কল রিসিভ করেনি।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ- সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, হেডকোয়ার্টার থেকে জহিরুল ইসলামের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব আমার কাছে এসেছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্ত চলমান। তবে আজকের বিষয়টি আমার জানা নেই। হয়তো তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ম্যানেজ করতে সেখানে গেছেন।
মো. আকাশ/এনএইচআর/জেআইএম