চুয়াডাঙ্গায় ২০ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ, কার্ড পেতে যা লাগবে
চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ড বিতরণ/ছবি-জাগো নিউজ
তেল সংকটের গুঞ্জনের পর চুয়াডাঙ্গার পেট্রোল পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিক্রি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রথম দিন অর্থাৎ ৩০ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কার্ড বিতরণ করা হলেও অতিরিক্ত ভিড় ও জনভোগান্তির কারণে পরবর্তীতে ৩১ মার্চ থেকে প্রতিটি উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলার চার উপজেলা পরিষদে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ড নিতে দীর্ঘ লাইন/ছবি-জাগো নিউজ
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে হয়েছে গ্রাহকদের। তবে কাঙ্ক্ষিত কার্ড হাতে পেয়ে অনেকের চোখে মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। উপজেলা পরিষদ থেকে কার্ড বিতরণ করায় ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
জেলার চার উপজেলায় ফুয়েল কার্ডের জন্য ২০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে এ রই মধ্যে ২০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, প্রথম দুই দিন ভোগান্তি বাড়াই, তা কমানোর জন্য সময়সীমা আরও দুই দিন বাড়ানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রাম থেকে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে এসে মোটরসাইকেলচালক সোহাগ মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘ লাইনের কারণে আবেদন জমা দিতে পারিনি। আজ উপজেলা পরিষদে কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড পেয়েছি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কার্ড পাওয়ার পরও কি আমাদের পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে?
ফুয়েল কার্ড পেতে যা যা লাগবে/ছবি-জাগো নিউজ
আরেক গ্রাহক মিল্টন মিয়া বলেন, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গাড়ির কাগজপত্র জমা দিলে কার্ড দিচ্ছে। এই কার্ড পেলে হয়তো তেলের জন্য আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। আমি একটি কোম্পানিতে কাজ করি। তেলের সংকটে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। কার্ড পেলে দ্রুত তেল পাওয়া যাবে এবং কাজেও মনোযোগ দিতে পারব।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আজ ১ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জেলার ২২টি পেট্রোল পাম্পে তেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ২০ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে/ছবি-জাগো নিউজ
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বিএম তারিক উজ জামান জানিয়েছেন, গত দুই দিনে ২০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এরই মধ্যে ২০ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আমরা মোট ৩৫ হাজার কার্ড ছাপিয়েছি। হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলার সব মোটরসাইকেল ও যানবাহন মালিক-চালকদের ফুয়েল কার্ড নিশ্চিত করতে সময়সীমা আরও দুদিন বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) প্রতিটি উপজেলায় ৩ হাজার করে মোট ১২ হাজার কার্ড দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বাড়ানো হবে।
হুসাইন মালিক/এমআরএম