ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শ্রুতিলেখক জটিলতায় মেধাবী মানহার বৃত্তি পরীক্ষা অনিশ্চিত

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে আবৃত্তি, গান ও কুইজ প্রতিযোগিতায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রায় ১০০ পুরস্কার জিতেছে অদম্য মেধাবী ইউসরা মানহা। কিন্তু আসন্ন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তার শ্রুতিলেখক নিয়ে শুরু হয়েছে দুই দপ্তরের আইনি জটিলতা। পরীক্ষার আর মাত্র ১২ দিন বাকি থাকলেও শ্রুতিলেখক হিসেবে কে অংশ নিতে পারবেন—তা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অনড় অবস্থানে মানহার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চিত।

মানহা যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এবং শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার আসকার সালমান ও সুমনা ফেরদৌসের সন্তান।

প্রায় এক মাস সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ধর্ণা দিয়েও বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন মানহার বাবা-মা। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার আর মাত্র ১২ দিন বাকি থাকায় তারা শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মানহার বাবা আসকার সালমান জানান, মানহা ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। আগামী ১৫ এপ্রিল এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। যেহেতু মানহা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তাই প্রায় একমাস আগে তার শ্রুতিলেখকের জন্য আবেদন করা হয়। শ্রুতিলেখকের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ‘পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের সেবা গ্রহণসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫’ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই নীতিমালায় উল্লেখ আছে, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ এর ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঝ) ও (ড) অনুযায়ী সকল পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য সংগতিপূর্ণ বন্দোবস্ত প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।’ এই নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর জন্য শ্রুতিলেখকের সর্বোচ্চ যোগ্যতা একজন শিক্ষক নির্ধারণ করা হয়েছে।

শ্রুতিলেখক জটিলতায় মেধাবী মানহার বৃত্তি পরীক্ষা অনিশ্চিত

মানহার বাবা জানান, এই নীতিমালা অনুযায়ী, শ্রুতিলেখকের জন্য আবেদন করা হলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ওই আবেদন গ্রহণ করেনি। এর বিপরীতে তারা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ দেখিয়ে দিয়েছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী শ্রুতিলেখক হিসেবে ৪র্থ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে নেওয়া যাবে।

আসকার সালমান আরও জানান, আমরা যখন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছি, ২৬ সালের এই পরীক্ষায় ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বলতে বোঝায় সদ্য তৃতীয় শ্রেণি উত্তীর্ণ শিশু। সে কীভাবে ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখক হতে পারে। সে তো অনেক শব্দ, বানান, বাক্য বুঝবেই না। পাশাপাশি এই শিশু শ্রুতিলেখকের মানসিক পরিপক্বতাও তো বুঝতে হবে। এজন্য আমরা আবেদন করেছিলাম ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’ বিবেচনায় নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নীতিমালাকে বিবেচনায় নিতে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেটি ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, প্রাথমিকের নয়’ বলে উল্লেখ করে আমাদের কোনো কথাই শুনতে চাননি। অথচ ওই নীতিমালায় কিন্তু প্রাথমিকের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

মানহার মা সুমনা ফেরদৌস বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে একমাস ধরে ধরনা দিয়েছি। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দুই নীতিমালার দোহাই দিয়ে কোনো সুরাহা করেনি। আর এই সংকট তো শুধু একটি শিশুর নয়; আরও অনেক শিশুকেই এই সমস্যার পড়তে হচ্ছে। তাই বিষয়টির সুরাহার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ ব্যাপারে জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিএম আলমগীর কবির জানান, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’ রয়েছে। এই নীতিমালার বাইরে গিয়ে তাদের কিছু করার নেই।

তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিণ জানান, ‘অদম্য মেধাবী মনহা অসংখ্য পুরস্কার জিতে তার মেধা-প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। তার শ্রুতিলেখক নিয়ে এই ঠেলাঠেলি আমাকে মর্মাহত করেছে। অন্য আইনে যা-ই থাকুক না কেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’ কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, এই আইন মেনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নীতিমালা করেছে। অথচ আন্তঃমন্ত্রণালয় জটিলতার কারণে প্রাথমিক বিভাগ ওই নীতিমালা মানছে না। এটি একজন প্রতিবন্ধী শিশুর অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে আমি মানহার জন্য ন্যায় চাই।

মিলন রহমান/কেএইচকে/এএসএম