বান্দরবান
কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লুটপাটের অভিযোগ পিআইও’র বিরুদ্ধে
বান্দরবানের আলীকদমে টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১ নম্বর আলীকদম সদর ইউনিয়নের কলার ঝিরি পাকা রাস্তা থেকে চৈক্ষ্যং খালমুখী সড়ক সংস্কার নামে একটি প্রকল্পের অনুকূলে ১০.২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানো হয়। যা অনেক আগে কাঠ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে নিজেদের টাকায় সংস্কার করা হয়েছিল।
অপরদিকে ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউপির ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বরই গাছ থেকে তুলা পাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পেও পুরোনো রাস্তাকে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবে করা হয়নি। বরং এ ধরনের একাধিক সড়ককে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখিয়ে কাজ না করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কাজের প্রতিটি বিল উত্তোলনের সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। কমিশন না দিলে বিল পেতে হয়রানির শিকার হতে হয়।

এমনকি এক নারী ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে ওই প্রকল্পের কাজ নিজে করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, অনিয়মের তথ্য পেয়ে এ বিষয়ে পিআইও কার্যালয়ে গেলে নোটিশ বোর্ডে প্রকল্পের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ টাঙানো তালিকা দেখা যায়। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অফিস সূত্র জানায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন চাল এবং ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ৮৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং কাবিটা খাতে এক কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কে এম নজরুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, অভিযোগপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রথম ধাপের তিনটি প্রকল্পের অনুকূলে ৭০ শতাংশ বিল দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগপ্রাপ্ত সব প্রকল্প তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নয়ন চক্রবর্তী/আরএইচ/এএসএম