ফের কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো বিরল প্রজাতির মৃত সামুদ্রিক কচ্ছপ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও একটি বিরল প্রজাতির মৃত সামুদ্রিক কচ্ছপ ভেসে এসেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে জোয়ারের সময় সৈকতের মাঝি পয়েন্ট এলাকায় প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের এই কচ্ছপটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর সদস্য জলিলুর রহমান প্রথম কচ্ছপটি দেখতে পান। পরে তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কচ্ছপটি উদ্ধার করেন। কচ্ছপটির ওজন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কেজি। চলতি বছরে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসা মৃত কচ্ছপগুলোর মধ্যে এটি অনেকটা বড় এবং ২০২৬ সালে এটি দ্বিতীয়। গত ১২ই মার্চ আরো একটি কচ্ছপ মৃত অবস্থায় এসেছিল।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম বাচ্চু জানান, কচ্ছপটি বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতির ‘অলিভ রিডলি’ (Olive Ridley) শ্রেণির। সাগরে প্লাস্টিক দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন অথবা অসাবধানতাবশত জেলেদের জালে আটকা পড়ে এই সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে। ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার সতর্ক করে বলেন, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় কচ্ছপের ভূমিকা অপরিসীম, এদের এমন মৃত্যু পুরো খাদ্যচক্রের জন্য অশনিসংকেত।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম বাচ্চু জানান, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটির বৈজ্ঞানিক নাম Lepidochelys olivacea (অলিভ রিডলি)। এটি একটি পুরুষ সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর উপকূলের কুয়াকাটা এলাকায় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে মাঝে মধ্যে মৃত কচ্ছপ ভেসে আসার ঘটনা ঘটে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক। এর পেছনে জলদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা জেলেদের জালে আটকা পড়ার মতো কারণ থাকতে পারে, তবে নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে গবেষণা প্রয়োজন।
ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। কচ্ছপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের সংখ্যা কমে গেলে পুরো খাদ্যচক্রে প্রভাব পড়ে। তাই দ্রুত এ বিষয়ে সমন্বিত গবেষণা, নজরদারি এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, উপকূলীয় এলাকায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। অনেক সময় জেলেদের জালে আটকা পড়ে কিংবা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কচ্ছপ মারা যায়। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং মৃত কচ্ছপটি দ্রুত মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে কুয়াকাটা সৈকতে বেশ কয়েকটি জীবিত সামুদ্রিক কচ্ছপের দেখা মিলেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মৃত কচ্ছপ ভেসে আসার ঘটনা বাড়ায় উপকূলীয় পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/কেএইচকে/এএসএম