রাজশাহীতে চলছে মাঝারি তাপপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৩৯.০৫ ডিগ্রি
রাজশাহীতে আজ ৩৯.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। এছাড়া জেলাজুড়ে চলছে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর এ তথ্য জানিয়েছেন রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দিন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় তাপদাহের তীব্রতা বাড়ছে। গত তিন দিন থেকেই চলছে তাপদাহ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, তাপদাহ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহীতে আজ চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে চলমান তাপদাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা। প্রখর রোদ ও গরমে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। শহরের রাস্তাঘাটেও মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, রোদে রিকশা চালানো এখন অনেক কষ্টের হয়ে গেছে। দুপুরের দিকে যাত্রীও কম থাকে, আবার গরমে শরীরও ঠিক থাকে না।
নির্মাণশ্রমিক সোহেল রানা জানান, রোদে কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে যায়। একটু পরপর পানি খেতে হয়, তারপরও গরম সহ্য করা যাচ্ছে না।
ফল বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, গরমের কারণে মানুষ কম বের হচ্ছে, তাই বিক্রিও কম। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে খুব কষ্ট হয়। গৃহিণী শিউলি বেগম বলেন, ঘরের ভেতরেও গরম সহ্য করা যাচ্ছে না। ফ্যান চালিয়েও আরাম পাওয়া যাচ্ছে না, ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বেশি চিন্তায় আছি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, এই সময় হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন গরমজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তারা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, প্রচুর পানি পান করা এবং রোদে বের হলে ছাতা বা মাথা ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
কেএইচকে/এএসএম