ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অন্যের মৎস্য খামারের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি | কিশোরগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যক্তির মৎস্য খামার (ফিশারি) থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে খামারের মালিককে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মো. দেলোয়ার হোসেন এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের ছয়চির গ্রামের মৃত মজনু মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন বর্তমানে পরিবারসহ কিশোরগঞ্জ শহরে বসবাস করলেও গ্রামে তার একটি মৎস্য খামার রয়েছে। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে গিয়ে খামারের দেখভাল করেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে গত ১ এপ্রিল সকালে সুখিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম শামীম, যুবদল নেতা মুরসালিন ইসলাম রনিসহ কয়েকজন এক্সকেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে খামার থেকে মাটি কাটা শুরু করেন। পরে সেই মাটি স্থানীয় একটি ইটভাটায় বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যের মৎস্য খামারের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

সংবাদ পেয়ে দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি আইনি পদক্ষেপ নিলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম শামীম ও তার সহযোগীরা এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন। পদ্মকুড়ি বিলের ফসলি জমি দখল করে মাটি বিক্রি ও অবৈধভাবে ফিশারি খননের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কিছু দিন আগেও মাটি কাটার অভিযোগে প্রশাসন তাদের জরিমানা করেছে। এতে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ টিটুর সঙ্গেও তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই শামীম ও তার লোকজন মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি খামারের পাড়ে থাকা তিনটি মেহগনি গাছও কেটে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার এক আত্মীয় পাকুন্দিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি। দলের নাম ভাঙিয়ে এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অন্যের মৎস্য খামারের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, নিজের ফিশারি বড় করার জন্য খাল বন্ধ করে অন্যের ফিশারির পাড় কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম শামীম। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জমিটির সঙ্গে আমার কোনো দালিলিক সম্পর্ক নেই। ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক তাদের ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আমার কাছে এক্সকেভেটর মেশিন চেয়েছিল, আমি শুধু সহায়তা করেছি। এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে আমি থানায় লিখত অভিযোগ করেছি।

এদিকে সুখিয়া ইউনিয়ন যুবদল যুগ্ম-আহ্বায়ক মুরসালিন ইসলাম রনি দাবি করেন, তিনি বৈধভাবে ফিশারিটি ইজারা নিয়েছেন ও পাড় সংস্কারের কাজ করছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি তাই কাজ বন্ধ রেখেছেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ওই এলাকায় ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

এসকে রাসেল/এমএন/এমএস