কক্সবাজারে ডাম্প ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী ২ বন্ধু নিহত
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খরুলিয়ায় ড্রাম্পার ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এতে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইজিবাইক (টমটম) ওভারটেক করতে গিয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন এ তথ্য জানান।
নিহতরা হলেন- ঝিলংজা ইউনিয়নের দরগাহ স্টেশন এলাকার বাসিন্দা সৈকত আলীর ছেলে আরফাত (২০) ও একই ইউনিয়নের পশ্চিম মুক্তারকুল ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল হক ড্রাইভারের ছেলে রিসান (২০)।
বাইকে থাকা একই এলাকার সানি (১৯) সংকটাপন্ন অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সিএনজি চালক মনিরুল আলমের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরফাত, রিসান ও সানি তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে রামু গিয়ে সেখান থেকে এলাকায় ফিরছিল। মহাসড়ক দিয়ে ফেরার পথে তাদের সামনে একটি টমটমকে (ইজিবাইক) ওভারটেক করার চেষ্টা করেন। এমন সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ডাম্পার ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাইকটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে তিন আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিসান ও আরফাতকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত সানির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। অবস্থা দেখে মনে হলো, বাইকারোহী ও ডাম্পার চালক কেউই প্রফেশনাল চালক নন। ট্রাফিক আইন মানলে হয়ত এমন ঘটনায় পড়তো না। দুদিন আগে পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় পথচারীসহ বাইকচালক নিহত হওয়ার ঘটনা সর্বত্র আলোচনার জন্ম দেয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই খরুলিয়ার এ দুর্ঘটনা টিনেজারদের বাইক চালাতে দেওয়ার আগে অভিভাবকদের ভাবার বিষয়টি অগ্রগণ্য হয়ে উঠেছে।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।
সদর থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি হাইওয়ে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মরদেহগুলো মর্গে রয়েছে। পারিবারিক সিদ্ধান্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। টিনেজারদের বাইক চালাতে দেওয়ার আগে অভিভাবকদের ভাবা উচিত বলে মন্তব্য করেন ওসি।
সায়ীদ আলমগীর/এমএন/এমএস