ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

যাত্রাপালার নামে অশ্লীলতার চর্চা মেনে নেওয়া হবে না

জেলা প্রতিনিধি | ময়মনসিংহ | প্রকাশিত: ১০:৪২ এএম, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, যাত্রাপালার নামে কোথাও যদি অশ্লীলতার চর্চা হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বরং এসব সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুল অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সংস্কৃতির বিকাশে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, সংস্কৃতি অঙ্গনে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা দূর করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ময়মনসিংহকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহকে অন্তর্ভুক্ত করে এখান থেকেই সাংস্কৃতিক উন্নয়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হতে পারে। এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।

তিনি আরও বলেন, ত্রিশালে কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থানে জাতীয়ভাবে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন এবং তিনিই এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, ময়মনসিংহ ঐতিহ্যগতভাবে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল, বিশেষ করে শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। তাই দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নতুনভাবে বিকশিত করতে হলে আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজে অনেক সময় একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, শুধু গান-বাজনাই সংস্কৃতি। বাস্তবে মানুষের চলাফেরা, আচার-আচরণ, কথা বলার ধরণ সবকিছুই সংস্কৃতির অংশ। তাই আগামী প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই এসব মূল্যবোধ শেখানো জরুরি। এজন্য দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চা আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কথা তিনি তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ময়মনসিংহবাসী প্রায় ২০ বছর ধরে জাতীয়ভাবে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সেই বঞ্চনার অনুভূতিকে কিছুটা হলেও লাঘব করার লক্ষ্যে এবারের আয়োজনকে বিশেষভাবে অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি অনুষ্ঠান করতে চাই যা হবে আধুনিক, শালীন এবং রুচিশীল। যেখানে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা বজায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই পুরো আয়োজনটি যেন এলিগ্যান্ট ও ক্লাসি হয় সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনোভাবেই অপচয় করা হবে না। জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে সীমিত ব্যয়ের মধ্যেই একটি সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২৫ মে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং তা ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য একটি গৌরবময় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান। এছাড়াও ভালুকার সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ফুলবাড়িয়ার সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান ও (ফুলপুর-তারকান্দা) উপজেলার সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ময়মনসিংহ রেঞ্চ ডিআইজি, ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/এমএস