ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

খাওয়ার পানিও জোটে না বন্দরের বাসিন্দাদের

জেলা প্রতিনিধি | নারায়ণগঞ্জ | প্রকাশিত: ০১:১৮ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় পানির জন্য যেন হাহাকার চলছে। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ থেকে শুরু করে খাওয়ার পানি পর্যন্ত পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। সাময়িকভাবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানি সরবরাহ করলেও সেই পানি দিয়ে তাদের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না। বিশেষ করে গরমের মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে পানির সমস্যা যেন প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন এলাকাজুড়েই পানির জন্য হাহাকার চলছে।

বন্দরের বিভিন্ন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় অর্ধলক্ষ বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরেই এই পানির সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে বিগত রমজান মাস তাদের অনেক কষ্ট করে অতিবাহিত করতে হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান হলেও সেটা বেশিদিন স্থায়ী হয় না। কিছুদিন পর আবারো সেই পানির সংকট দেখা দেয়।

এদিকে বন্দর এলাকার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা নদী। কিন্তু এই শুষ্ক মৌসুমে সেই নদীর পাশ দিয়ে যাওয়াই যেন দায় হয়ে যায় দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত পানির কারণে। তারপরও এলাকাবাসী অনেকটা অপারগ হয়েই নদীর পানি দিয়েই গোসল করেন।

খাওয়ার পানিও জোটে না বন্দরের বাসিন্দাদের

তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে তারা কিছুটা আশ্বস্ত হচ্ছেন। হয়ত কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সমস্যার সমাধান হবে। সেইসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

বন্দরের রসূলবাগ এলাকার বাসিন্দা টিটু নামে একজন বলেন, নদীর ময়লা পানি দিয়েই আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যে পানি দেওয়া হয় সেটাতে চাহিদা পূরণ হয় না।

কবিলের মোড় এলাকার বাসিন্দা এমদাদুল হক দিপু বলেন, আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পনির সমস্যায় জর্জরিত সাধারণ মানুষ। পানি আসেতো আসে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা বিভিন্ন রকমের তালবাহানা করছে। আমাদের ভোগান্তির যেন কোনো শেষ হচ্ছে না।

বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহিদুল হক লিপু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের পানির সমস্যা চলছে। বিশেষ করে রমজান মাসে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পানি ছাড়া জীবন যাপন করাটা কতটা কষ্টের সেটা বলে বোঝানো যাবে না। নদীর পানি ময়লা, ব্যবহার করা যায় না। গোসল পর্যন্ত করা যায় না। আমাদের অসহনীয় অবস্থার মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে গাড়ি দিয়ে পানি সরবরাহ করছে। তবে এই পানি দিয়ে আমাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। শুধুমাত্র কোনো রকম রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায়। আমাদের দাবি অতিদ্রুত যেন পানির ব্যবস্থা করা হয়।

খাওয়ার পানিও জোটে না বন্দরের বাসিন্দাদের

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে পাম্প পরিমাণ অনুযায়ী চালাতে পারছেন না। সেইসঙ্গে পানির লেয়ায় নিচে নেমে গেছে। ব্যবস্থাপনারও কিছু ঘাটতি আছে। ওয়াসাকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নিয়ে গেলেও সে পরিমাণ জনবল নিয়োগ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ওয়াসার দক্ষ জনবল ছিল, যেটা সিটি কর্পোরেশনের এখনও হয়নি। সবমিলিয়েই পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু এলাকার মানুষের কষ্ট দেখলে কান্না চলে আসে। তাদের পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য সকলকেই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পানির অপচয় রোধ করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, যেসব এলাকায় পানির সমস্যা আছে, আমরা সেসব এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পানি সরবরাহের কথা বলেছি। সেইসঙ্গে পাম্পের কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলো অতিদ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি পানির সমস্যা থাকবে না।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ/এএসএম