ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পানির নিচে ১০ হাজার বিঘা জমির ধান, দিশেহারা হাওরের হাজারো কৃষক

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন | হবিগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৮:০৩ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বিশাল এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পাকা ও আধাপাকা ধানে পচন ধরার আশঙ্কায় বর্গাচাষি ও ঋণগ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হলেও স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার বিঘা বা প্রায় ১৩৫০ হেক্টর ছাড়িয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বানিয়াচং উপজেলার উগলী, বাতাসের ও বালি হাওরসহ সুজাতপুর, ইকরাম ও শতমুখা এলাকার কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে। গত এক সপ্তাহ ধরে রত্না নদীর বাঁধ উপচে হাওরে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আধাপাকা ও পাকা ধানে পচন ধরার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, ধানের শীষ বের হওয়ার এ পর্যায়ে ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফসল ঘরে তোলার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

আরও পড়ুন
হাওরপাড়ের কৃষকের কান্না শুনবে কে?

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, গত কয়েক দিনের বর্ষণে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ২৮১ হেক্টর জমির ফসল পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিমজ্জিত হয়েছে বানিয়াচং উপজেলায় ২১৮ হেক্টর। আজমিরীগঞ্জে ১৮, নবীগঞ্জে ২০ ও লাখাই উপজেলায় ২৫ হেক্টর। তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ৬ এপ্রিল দিনগত রাতভর বৃষ্টিপাতে কী পরিমাণ জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে তার তথ্য এখনও নিরূপণ করা হয়নি।

পানির নিচে ১০ হাজার বিঘা জমির ধান, দিশেহারা হাওরের হাজারো কৃষক

বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মাহবুবুর রহমান জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরের বিস্তীর্ণ জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ধান পাকার সময় হয়েছিল। এ মুহূর্তে ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এতে পচন ধরতে পারে। আমরা যদি এবার ধান তুলতে না পারি, তবে কৃষকদের খেয়ে বাঁচা কঠিন হয়ে পড়বে।

একই এলাকার ইকরামু গ্রামের কৃষক আহলাদ মিয়া তার দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে ধার-দেনা করে ৮ বিঘা জমি বর্গাচাষ করেছিলাম। বিঘা প্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফসল তো ভালো হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণের টাকা শোধ করব নাকি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেব—এই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

আরও পড়ুন
আগাম বন্যার ঝুঁকি, হাওরে বোরো নিয়ে শঙ্কা

বৃষ্টির পানির পাশাপাশি রত্না নদীর বাঁধ দিয়ে পানি আসায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উল্লেখ করে সুজাতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে রত্না নদীর বাঁধ উপচে উগলী, বাতাসর ও বালি হাওরে পানি প্রবেশ করছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কৃষকদের প্রায় ৭ হাজার বিঘার মতো জমির কাঁচা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানির নিচে ১০ হাজার বিঘা জমির ধান, দিশেহারা হাওরের হাজারো কৃষক

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, জাইকা প্রকল্পের আওতায় হাওরের সংযোগ খালগুলো পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, এ প্রকল্পের মাধ্যমে যেন আরও দুই একটি হাওরকে যুক্ত করতে পারি। সংযোগ খালগুলো খনন করলে পানি হাওরে জমে থাকবে না।

আরও পড়ুন
শেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে হাওরের বোরো ধান

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান বলেন, হাওরে যে পানি জমে আছে তা বৃষ্টির পানি। এটি নদী থেকে আসা পানি নয়। এছাড়া নদীর পানি হাওরের পানির চেয়ে উপরে আছে। যদি হাওরের পানি কমানোর জন্য নদীর বাঁধ কাটা হয়, তবে উল্টো নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করবে। এ অবস্থায় সহসা হাওরের পানি কমার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। একটি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করা যায় না। তবে আমরা নিয়মিত হাওর পর্যবেক্ষণ করছি।

ইআরকে/কেএইচকে/এমএস