ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভুয়া ওয়ারেন্টে সাংবাদিক গ্রেফতার, ১৮ ঘণ্টা পর আদালত থেকে মুক্তি

জেলা প্রতিনিধি | কুমিল্লা | প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি ‘ভুয়া ওয়ারেন্টে’ স্থানীয় সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে আটক করে থানা পুলিশ। আটকের ১৮ ঘণ্টা পর আদালত থেকে ছাড়া পান তিনি। তবে বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে আদালত ও থানা পুলিশ স্বীকার করলেও এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ভুক্তভোগী সোহরাব হোসেন ‘প্রতিদিনের কাগজের’ দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকালে দেবিদ্বার থানার এস আই ভবতোষ কান্তি দে‘র নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে কুমিল্লার সিআর মামলা নাম্বার-৫৭৩/২০২৫ এর একটি গ্রেফতারি পরোয়ানায় সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। ওয়ারেন্টের বিষয়ে জানতে চাইলেও পুলিশ তার কথায় কর্ণপাত করেনি।

পরে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লায় আদালতে পাঠালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সায়মা শরীফ নিশাত সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন আদালত থেকে জানানো হয়, যে ওয়ারেন্টে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তা সঠিক ছিল না।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বলেন, উপজেলার উটখারা মাজারের জমি অবৈধভাবে দখলকারীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। জামিনে থাকার পরও সোমবার বিকেলে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখিয়ে আমাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। জামিনের বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তারা আমার কোনো কথা না শুনে ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখে আদালতে পাঠায়।

তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আমার কাগজপত্র দেখে আমার নামে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা না থাকায় আমাকে ছেড়ে দেন। ভুয়া ওয়ারেন্টের কারণে আমার সম্মানহানি হয়েছে। আমি এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ভবতোষ কান্তি দে বলেন, আদালত থেকে ওয়ারেন্ট থাকায় আমরা সোহরাব হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠাই। কিন্তু আদালতের ওয়ারেন্টের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার আমাদের সুযোগ নেই। আসামি নিয়ে আদালতে গেলে জানতে পেরেছি ওয়ারেন্টটি সঠিক ছিল না।

কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলী আদালতের পেশকার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাটি ভুলবশত থানায় চলে গিয়েছিল। তাকে আদালতে নিয়ে আসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি ভুলবশত হয়েছে, এ বিষয়ে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে/এমএস