ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চুয়াডাঙ্গা

তেল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, সেচ সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি | চুয়াডাঙ্গা | প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখন দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ার মতো। মোটরসাইকেল চালকদের ভিড়ে পাম্প এলাকাগুলো এখন অচলপ্রায়। এখন সেই জায়গায় ভিড় করেছেন কৃষকরা। বোরো মৌসুমে সেচের চাপে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পে এখন কৃষকদের দীর্ঘ লাইন।

জেলার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ নীতি এবং নজরদারির কারণে বাইকারদের ভিড় কমে গেছে। অনেকেই পাম্পে যাওয়ার আগে তেল পাওয়া যাবে কি না তা নিশ্চিত হচ্ছেন। ফলে মোটরসাইকেলের চাপ কিছুটা কম থাকলেও, সেই জায়গা এখন নিয়েছে সেচনির্ভর কৃষিকাজে যুক্ত মানুষজন।

চুয়াডাঙ্গা শহরের একাধিক পাম্পে দেখা যায়, সীমিত সরবরাহের মধ্যেও ডিজেল নিতে কৃষকদের দীর্ঘ সারি। কারও হাতে তেল নেওয়ার ক্যান বা বোতল, আবার কেউ শ্যালো মেশিনের ফুয়েল ট্যাংক নিয়ে অপেক্ষা করছেন। সময়মতো সেচ না দিতে পারলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন।

চার বিঘা জমির চাষি মজিবর রহমান বলেন, ৫০০ টাকার তেলে জমির সেচ চলে না। তবুও লাইনে দাঁড়িয়ে যা পাই তাই নিয়ে ফিরতে হয়। এখন ফসল বাঁচানোই সবচেয়ে বড় চিন্তা।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় জনপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি তেল না দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ রয়েছে। সরবরাহ ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে তীব্র দাবদাহ ও সেচ মৌসুম একসঙ্গে পড়ায় ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু সরবরাহ সেই তুলনায় না বাড়ায় কৃষকদের সামনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে বোরো ধান উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চুয়াডাঙ্গা শহরের রেল বাজারের একটি পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, ৬ এপ্রিল আমরা ৩ হাজার লিটার পেট্রোল, ২ হাজার লিটার অকটেন ও সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছি। পেট্রোল আর অকটেন শেষ। যা ছিল চাহিদার তুলনায় খুবই কম। আগে বাইকারদের চাপ ছিল বেশি, এখন সেই জায়গা নিয়েছে কৃষকেরা। অল্প ডিজেল আছে লাইন অনুযায়ী বিক্রি করছি।

চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলাতদিয়ার এলাকার একটি তেল পাম্পের কর্মচারী মো. মিঠুন বলেন, আমাদের কাছে কোনো তেল নেই। তারপরও মানুষ আসছেন। আগামীকাল ৩ হাজার লিটার পেট্রোল, ২ হাজার লিটার অকটেন ও ৯ হাজার লিটার ডিজেল আসার কথা রয়েছে ডিপো থেকে। আসলে আমরা বিক্রি করবো।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বিএম তারিকুজ্জামান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিটি পাম্প ও এজেন্সি অর্থাৎ ডিলার পয়েন্টে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি জায়গায় ট্যাগ অফিসার আছেন, তারাও শৃঙ্খলা রাখতে কাজ করছেন। এছাড়া আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত প্রতিটি পাম্প ও এজেন্সির হিসাব দিয়ে দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে কৃষকরা তেল পান। এছাড়া ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল বিতরণ করাতে শৃঙ্খলা ফিরেছে।

হুসাইন মালিক/এনএইচআর/জেআইএম