মেহেরপুরে ২ হাজার টাকার নিচে মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার
মেহেরপুরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৭২৮ টাকা হলেও জেলার বিভিন্ন বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকায়, কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সরেজমিনে মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দখলে বাজার। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই খুচরা বাজারে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানের সামনে কোনো মূল্যতালিকা নেই। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। অনেক জায়গায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও উঠেছে।
শহরের বোস পাড়ার বাসিন্দা আসমা খাতুন বলেন, টিভিতে দেখি গ্যাসের দাম কমেছে বা অপরিবর্তিত আছে। কিন্তু দোকানে গেলে উল্টো কথা শুনতে হয়। ২ হাজার টাকার নিচে কোনো সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। তদারকি না থাকায় দোকানিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
মেহেরপুর পৌর শহরের হোটেল বাজার, কোর্ট বাজার, বড় বাজার ও হাসপাতাল বাজারসহ গাংনী ও মুজিবনগরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট মুদি দোকানেও অবাধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে দেখা গেছে। মুজিবনগরের কেদারগঞ্জ বাজারে খোলা স্থানে, তীব্র রোদের মধ্যে সিলিন্ডার মজুত করে রাখার দৃশ্যও চোখে পড়ে, যা নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
গাংনী উপজেলার বাসিন্দা আবেদা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দামে কোনো দিন গ্যাস পাইনি। দোকানে মজুত থাকলেও বলে নেই, কিন্তু বেশি দাম দিলে ঠিকই দেয়। এখন অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। নিয়মিত তদারকি বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তবে খুচরা বিক্রেতারা দোষ চাপাচ্ছেন ডিলারদের ওপর। হোটেল বাজারের এক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। ডিলাররাই বেশি দামে গ্যাস দিচ্ছেন, কোনো রশিদও দেন না। বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। এলপিজির দামে কারসাজির তথ্য পেয়েছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় জানান, শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভোক্তারা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। নিয়মিত মনিটরিং, নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই নৈরাজ্য থামানো সম্ভব নয়।
আসিফ ইকবাল/এনএইচআর/জেআইএম