ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘রিকশা চালাইয়া যে টেহা জমাইসিলাম মেয়ের সিজারে সব খরচ হইয়া গেছে’

মোঃ নাঈম ইসলাম | শেরপুর | প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারটি কাজে আসছে না। চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে না। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সীমান্তবর্তী এ উপজেলাবাসীকে।

জানা যায়, ২০১৫ সালে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নতুন ভবন উদ্বোধন করে এটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। নতুন ভবনের উদ্বোধনের আট বছর পেরোলেও হাসপাতালে এখনো সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনের প্রথম দিকে ডায়াথার্মি মেশিন, ওটি লাইট ও জেনারেটরের অভাবে ওটি চালু করা সম্ভব হচ্ছিলো না। পরবর্তীতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষের দিকে জাইকা ও উপজেলা পরিষদের যৌথ সহযোগিতায় ওটির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব পূরণ করা হলেও অ্যানেস্থেশিয়া বা অজ্ঞান করার ডাক্তার ও অপারেশন থিয়েটারে আইসোফ্লোরেন চেম্বার না থাকায় এখনও সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না।

‘রিকশা চালাইয়া যে টেহা জমাইসিলাম মেয়ের সিজারে সব খরচ হইয়া গেছে’

এদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রায় দুই লাখের অধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসার জায়গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা প্রসূতি মায়েরা গর্ভকালীন অন্যান্য সেবা পেলেও ডেলিভারির ক্ষেত্রে জটিল সমস্যার সম্মুখীন হলে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় জেলা শহরে। ফলে জেলা শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে গুনতে হয় ২০-৩০ হাজার টাকা।

নালিতাবাড়ী হাসপাতাল থেকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য রেফার করে দেওয়া এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার মেয়ের সিজারের জন্য গরু বেচতে হইছে, উপজেলা হাসপাতালে যদি সিজার করতো এতো টেহা লাগতো না।’

উপজেলার রানিগাও গ্রামের মানিক মিয়া বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে শেরপুর শহরে নিয়ে সিজার করতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা ঋণ করে জোগাড় করতে হয়েছে।’

একইভাবে নয়াবিল এলাকার আফাজ আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি ঢাকা রিকশা চালাইয়া যে টেহা জমাইসিলাম সেই সব টেহা মেয়ের সিজারের পিছনে খরচ হইয়া গেসে, সরকারি থাইক্কা আমগোর কী লাভ যদি গরীব মাইনসের উপকার না হয়।’

‘রিকশা চালাইয়া যে টেহা জমাইসিলাম মেয়ের সিজারে সব খরচ হইয়া গেছে’

বৈশাখি বাজার এলাকার এক যুবক বলেন, ‘আমার বড় বোনের প্রসব ব্যথা শুরু হলে আমরা তাকে নিয়ে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। রাতে কষ্ট করে এসে জানতে পারি এখানে অপারেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। পরে দ্রুত সিএনজি ভাড়া করে শেরপুর শহরে নিয়ে অপারেশন করাই। এভাবে অনেক লোকজন ভোগান্তিতে পড়েন।’

শেরপুর সম্মিলিত নাগরিক উদ্যোগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছাইফুল ইসলাম বলেন, প্রসূতি মায়েরা এই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সবিমুখ। কারণ এখানে ডাক্তার নেই, তাই অপারেশন হয় না। অথচ দরিদ্র মায়েদের জন্যই এই সরকারি হাসপাতাল। এখানে গাইনি ডাক্তার থাকলে আমাদের সীমান্তবর্তী এসব মানুষের ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। দ্রুত অপারেশন থিয়েটার চালুর দাবি জানাচ্ছি।’

হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হুমায়ূন আহাম্মেদ নূর জানান, নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতে সিজারিয়ান অপারেশন ব্যবস্থা চালু করা যায় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জন অফিসে অবগত করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন শাহিন মিয়া বলেন, সম্প্রতি আমি নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম। এছাড়াও আমাদের সহকারী অধ্যাপক অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট মো. রিয়াজুল করিম অপারেশন থিয়েটার রুম ও যন্ত্রপাতি পর্যবেক্ষণ করেন। অপারেশন থিয়েটার চালু করতে যা যা প্রয়োজন তার চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি।

মো. নাঈম ইসলাম/এমএন/জেআইএম