ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে চান পটুয়াখালী বিএনপির ৮ নেত্রী

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে পটুয়াখালী বিএনপিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও মহিলা দলের নেত্রীরা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছেন। এসব নেত্রীরা এখন ছুটছেন দলের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে।

সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন লায়লা ইয়াসমিন তালুকদার, আনোয়ারা খান, সালমা আলম লিলি, নাজমুন নাহার নাজু, আফরোজা বেগম সীমা, ফারজানা ইয়াসমিন রুমা ও জেসমিন জাফর। এরই মধ্যে এসব নেত্রীরা ফেসবুক পেজে নিজের ছবি ও রাজনৈতিক বৃত্তান্ত পোস্ট দিয়ে দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় শেষ হয়েছে মনোনয়ন সংগ্রহ।

লায়লা ইয়াসমিন তালুকদার

সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন লায়লা ইয়াসমিন তালুকদার। তিনি জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিক, সভাপতি, আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, যুগ্ম-আহ্বায়কেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৭ সালে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল থেকে ছাত্রী মিলনায়তন সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হন। লায়লা ইয়াসমিন পটুয়াখালীর একটি বেসরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

আনোয়ারা খান

সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভানেত্রী আনোয়ারা খান। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব শাহজাহান খানের সহধর্মিণী। শাহজাহান খান ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর বরিশালে অনুষ্ঠেয় বিভাগীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় গাবুয়া বাস স্ট্যান্ড এলাকায় তার উপর হামলা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ দিন পর ২৮ নভেম্বর মারা যান তিনি। তার ছেলে শিপলু খান জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ছিলেন।

সালমা আলম লিলি

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দিতার জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সালমা আক্তার লিলি। তিনি পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপির সাবেক এমপি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত পরাজিত প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের সহধর্মিণী। সালমা বাউফল উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী। তিনি ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী আ.স.ম ফিরোজের কাছে হেরে যান তিনি। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চাইছেন।

নাজমুন নাহার নাজু

সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রত্যাশা করছেন নাজমুন নাহার নাজু। তিনি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও জেলা মহিলা দলের অন্যতম সদস্য। তিনি ৯০ দশক থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং দলের আন্দোলন-সংগ্রামের নিবেদিত কর্মী।

আফরোজা সীমা

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার প্রত্যাশায় দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আফরোজা সীমা। তিনি জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকার পতন আন্দোলনের একজন লড়াকু কর্মী ছিলেন এবং পুলিশ বাহিনী ও আওয়ামী লীগ কর্মী বাহিনীর হাতে অনেক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

ফারজানা ইয়াসমিন রুমা

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার প্রত্যাশায় দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ফারজানা ইয়াসমিন রুমা। তিনি জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও আওয়ামী লীগ সরকার পতন আন্দোলনের একজন লড়াকু যোদ্ধা ছিলেন এবং পুলিশ বাহিনী ও আওয়ামীলীগ কর্মী বাহিনীর হাতে অনেক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

জেসমিন জাফর

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে চাচ্ছেন জেসমিন জাফর। তিনি দীর্ঘদিন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা ছিলেন। বর্তমানে দলীয় গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি। তবে তিনি এখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী গ্রুপের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে।

ফেরদৌসী বেগম মিলি

কলাগাছিয়া এস এম সেকান্দার আলী চৌধুরী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তিনি। মা খবিরুন্নেছা পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাকালিন সহ-সভানেত্রী ও মরোনোত্তর রত্নগর্ভা উপাধিতে ভূষিত হন। মিলি বেগম জেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলা পর্যায় বিশেষ অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ ‘অদম্য নারী’ পুরস্কারে ভূষিত হন। মুজিববর্ষ নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাইবার ক্রাইম মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন তিনি। ৫ আগস্টের পর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি বলেন, প্রার্থী যে কেউ হতেই পারে। কিন্তু দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড এ বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বিগত ১৬ বছর যারা দলের হয়ে কাজ করেছে এবং যারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত তাদেরকেই সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন হবে এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাচাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিলের শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৯ এপ্রিল। সে লক্ষ্যে বিএনপির দলীয় ফরম বিক্রি ও জমা শুরু হয় গত ১০ এপ্রিল থেকে। শেষ হয় ১২ এপ্রিল বিকেল ৪টায়।

মাহমুদ হাসান রায়হান/এফএ/এএসএম