ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কুমিল্লায় চালু হচ্ছে শতকোটি টাকার সেই বিশ্রামাগার

জাহিদ পাটোয়ারী | কুমিল্লা | প্রকাশিত: ১২:২০ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় পণ্যবাহী গাড়িচালকদের জন্য নির্মিত আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বিশ্রামাগারটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ বিষয়ে এরই মধ্যে ইজারাদার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আগামী এক বছরের জন্য ইজাদারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চালকরা। তাদের দাবি, বিশ্রামাগারটি চালু হলে জাতীয় মহাসড়কে নিরাপত্তার ঝুঁকি কমবে। এতে যানমাল দুটোই রক্ষা পাবে।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর জাগো নিউজকে ‘শতকোটির বিশ্রামাগার এখন বখাটেদের কবজায়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে টনক নড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এরপরই মূলত বিশ্রামাগারটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

সরেজমিনে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্লান্ত চালকদের বিশ্রামের সুযোগ দিতে ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট সড়ক ও জনপদ বিভাগ দেশের ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও মাগুরা জেলায় পণ্যবাহী গাড়ি চালকদের জন্য চারটি বিশ্রামাগার নির্মাণের প্রকল্প একনেক সভায় পাশ হয়। ওই অর্থবছরেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় ১৩ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে ১০০ চালকের জন্য আধুনিক একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

চালু হচ্ছে কুমিল্লায় মহাসড়কে চালকদের বিশ্রামে সেই শতকোটির বিশ্রামাগার

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। চারতলা বিশিষ্ট দুইটি আধুনিক ভবন নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ৬৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তন ও দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে এতে ব্যয় হয় প্রায় ৯৬ কোটি টাকা। আধুনিক এই বিশ্রামাগার ঘিরে রয়েছে গোসলখানা, নামাজের স্থান, মিটিং রুম, বিশ্রাম কক্ষ, ক্যান্টিন, বিনোদনের সুযোগ ও ট্রাক পার্কিং। এছাড়াও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মেরামতের জন্য রয়েছে ওয়ার্কশপও। পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা অল্প খরচে এসব এইসব সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

মো. বিল্লাল নামে এক লরি চলক বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছি। ইঞ্জিন ঠান্ডা করার জন্য মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়েছি। এইভাবে জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। বখাটেরা মারধর, টাকা-পয়সা, মোবাইল সবকিছু নিয়ে যায়। বিশ্রামাগারটি চালু হলে আমরা সেখানে বিশ্রাম নিতে পারতাম। শুনেছি চালু হবে, কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ থাকবে যেন দ্রুত উদ্বোধন করা হয়। এতে আমাদের যানমাল দুটোই রক্ষা পাবে।

খলিলুর রহমান নামে এক ট্রাকচালক বলেন, গত দেড় বছর ধরে দেখছি বিশ্রামাগারটি কাজ শেষ। কেন এখনো চালু হচ্ছে না এ বিষয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। ঢাকায় যাওয়ার পথে গাড়ির সমস্যা দেখা দিয়েছে। খালি জায়গা পেয়ে বিশ্রামাগারের সামনেই দাঁড়িয়েছি। এখানে কোনো মিস্ত্রিও পাচ্ছি না। আজ যদি বিশ্রামাগারটি চালু থাকতো, দ্রুত সমস্যা সমাধান করে বিড়ম্বনা ছাড়াই চলে যেতে পারতাম।

তিনি আরও বলেন, খালি জায়গা না পেলে অবশ্য মহাসড়কে পাশেই গাড়ি দাঁড় করানো লাগতো। এসময় সার্জেন্ট দেখলেই মামলা বা জরিমানা করতো। চালকদের দুর্ভোগ কমাতে অন্তত বিশ্রামাগারটি চালু করা হোক।

চালু হচ্ছে কুমিল্লায় মহাসড়কে চালকদের বিশ্রামে সেই শতকোটির বিশ্রামাগার

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রোটারিয়ান কাজী জাকির হোসেন বলেন, বিশ্রামাগারটি শিগগিরই চালু হবে এমনটি শুনেছি। এতে পণ্যবাহী চালকদের ভ্রমণজনিত ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হবে। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমবে বলে তিনি মনে করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলী আহসান টিটু বলেন, একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় অবহেলায় পড়ে আছে। এটি আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা ও উদাসীনতার কারণেই মূলত পড়ে আছে। এতে রাষ্ট্রের কার্যকরিতা নিয়েও জনমনে অনেক প্রশ্ন ওঠে। চালকদের জন্য তৈরি বিশ্রামাগারটারটি গুরুত্ব বহন করে। যথাযথ বিশ্রাম প্রক্রিয়া অনুসরন করে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা হার হ্রাস পাবে। তাই আমি মনে করি সকল জটিলতা সমাধান করে দ্রুত এটি চালু করা হোক।

কুমিল্লা অঞ্চল হাইওয়ে পুলিশের এসপি (অতিরিক্ত ডিআইজি) শাহিনুর আলম খান বলেন, রাতে ইউটার্ন এলাকায় চালকদের মহাসড়কের ওপরই গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। এতে করে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। বিশ্রামাগার চালু হলে চালকরা নিরাপদ স্থানে বিশ্রাম নিতে পারবেন। এতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহাণির সংখ্যা কমে আসবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, বিশ্রামাগারটারটি চালুর করার জন্য এরই মধ্যে ইজারাদার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। পরবর্তীতে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এরপর অনুমোদন সাপেক্ষে ইজারাদারের সঙ্গে এক বছরের জন্য চুক্তি সম্পন্ন হবে।

এফএ/এমএস