১৫ বছরেও ২০ জেএমবি ক্যাডারের খোঁজ পায়নি পুলিশ
নওগাঁর ২০ জন জেএমবি ক্যাডার ১৫ বছর যাবৎ নিখোঁজ রয়েছে। এসব ক্যাডাররা কোথায় কী অবস্থায় আছে তার কোনো তথ্যই নেই পুলিশের হাতে। এমনকি পুলিশের কাছে তাদের ছবিও নেই বলে জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই ২০ জন জেএমবির মধ্যে কয়েকজন বিদেশে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ তাদের পরিচয়, ছবি সংগ্রহ ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তথ্য নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, সারাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ইতোমধ্যে জেলার ১৯ জন জেএমবি ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়াও জেএমবির তাণ্ডবের পর থেকে নিখোঁজ ২০ জন জেএমবি ক্যাডারদের অবস্থান, খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অপর জেএমবি সদস্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জানা গেছে, দীর্ঘ সময় চিহৃত সন্ত্রাসীরা গোপনে তাদের তৎপরতা চালালেও ১৯৯৮ সালের ৩ মার্চ আত্রাই উপজেলার যুবলীগ নেতা লাল মোহাম্মদ লালুকে হত্যার মধ্য দিয়ে রাণীনগর-আত্রাই উপজেলায় হত্যার রাজনীতি শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন এই দুই উপজেলার রাজনৈতিক নেতাদের উপর ভর করে রাজনৈতিক এ হত্যা কর্মকাণ্ড শুরু হয়। তবে তারা বেশি দিন এই সন্ত্রাস নির্ভরশীল রাজনৈতিতে টিকে থাকতে পারেনি। কিছু দিনের মধ্যেই রাজনীতিবীদরাই সন্ত্রাসীদের মূল টার্গেটে পরিণত হয়।
এমতাবস্থায় এলাকার তৎকালীন এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে চরমপন্থীদের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বাংলা ভাই সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে ‘বাংলা ভাই’ এর নেতৃত্বে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর আর্বিভাব ঘটে।
ওই সময় পুলিশি পাহারায় শত শত জেএমবি ক্যাডাররা রাণীনগর ও আত্রাইয়ে সর্বহারাদের দমন নামে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ, মারপিট, লুটতরাজ, নির্যাতন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর। এ সময় রাণীনগর উপজেলার ভীটি মাদরাসায় ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামে দুটি নির্যাতনী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
এই দুটি ক্যাম্পে প্রায় ২ মাস আশেপাশের এলাকার শতশত কথিত সর্বহারাদের ধরে এনে মারপিট ও নির্যাতন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২২ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ সময়ের মধ্যে পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৫ চরমপন্থি নিহত হয়েছে।
পরে ২০০৪ সালের জেএমবির তাণ্ডবের সময় খেজুর আলী ও আব্দুল কাইউম বাদশা হত্যা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। অবশেষে ২০০৫ সালে সরকার জেএমবিকে নিষিদ্ধ করে। পুলিশের পক্ষ থেকে ১শর বেশি জেএমবি ক্যাডারদের তালিকা করা হয়। সে সময় থেকে ২০ জন জেএমবি ক্যাডারকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশে রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে।
আব্বাস আলী/এফএ/পিআর
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ দাঁড়িপাল্লাকে জয়লাভ করানো সবার ঈমানী দায়িত্ব: শাহরিয়ার কবির
- ২ দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘সন্ত্রাসীদের’ গুলিতে মিরসরাইয়ের টিপু নিহত
- ৩ বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমানের জনসভায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি, আহত ২০
- ৪ ৮০% মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না
- ৫ দেশ পরিচালনায় তিন শর্তে ঐক্যের ডাক দিলেন জামায়াত আমির