ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৯ সে.মি. উপরে

প্রকাশিত: ০২:৫০ পিএম, ২০ জুলাই ২০১৬

কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ব্রহ্মপুত্রসহ নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৯ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বুধবার সকাল থেকে চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদের অববাহিকায় চর-দ্বীপচরগুলো তলিয়ে গেছে। বেশিরভাগ পরিবার বাড়ি ছেড়ে পাশের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

এমতবস্থায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫০ হাজার মানুষ। পাশাপাশি পানিবন্দী মানুষের দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট ও বিশুদ্ধ পানির অভাব। একইসঙ্গে গো-খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ বিতরণ শুরু না হওয়ায় জন প্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বানভাসিরা।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় জেলা প্রশাসক খান মো: নুরুল আমিন নিজ দফতরে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, জেলায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো নয়। উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহের কাজ শেষ হলেই ত্রাণ বিতরণ শুরু হবে।

খয়রাতির ১০০ মেট্রিকটন চাল ও ৪ লাখ টাকা মজুদ থাকার কথা উল্লেখ করে খান মো: নুরুল আমিন  বলেন, বুধবার অতিরিক্ত ৫০০ মেট্রিকটন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।

Kurigram-Flood

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে তিস্তার ও দুধকুমারের পানি।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী মো. মাহফুজার রহমান।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, বন্যার কারণে শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া তলিয়ে গেছে আমন বীজতলা ও পাটক্ষেত।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, বন্যার পানি ওঠায় জেলায় ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী (বীর বিক্রম) জানান, চিলমারী উপজেলার অষ্টমিরচর, নয়ারহাট, চিলমারী, রানীগঞ্জ, রমনা ও থানারহাট ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি। এসব এলাকায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকার বেশিরভাগ নলকুপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। চারণভূমি তলিয়ে থাকায় গবাদিপশু নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যা কবলিতরা।

নাজমুল হাসান/এএম/আরআইপি