ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তিস্তা হামার সব ভাসি নিয়া গেল বাহে

প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৬

তিস্তার হঠাৎ বানত হামার সব ভাসি নিয়া গেল বাহে, কিছুই আটকাবার পারোক (পারি নি) নাই। এলা (এখন) তিস্তার পাড়ত চালা পাতি আছুক (আছি)। একনা (একটা) টোপলা খিচুরি পাইচুক ওকিনা খাবার খেয়া (আছি) আছুক। মোর (আমার ) কেউ খোঁজ করে না’ এভাবে কথাগুলো বলছিলেন তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার লালমনিরহাটের গড্ডিমারী ইউনিয়নের ছয়আনী গ্রামের আমেনা খাতুন (৬০)।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তিস্তার পাড়ে চলছে হাজারও পরিবারের কান্নার রোল, ভাঙনকবলিত মানুষের হাহাকার। অনেকে ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউবা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

Lalmonirhat-Flate-Tista
 
তিস্তা নদীর ভাঙনের স্বীকার লালমনিরহাটের প্রায় ৫ হাজার পরিবার তিস্তার গাইডবান রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছে।

রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বৃহত্তর সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ফ্ল্যাড বাইপাচ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) লাল ফ্ল্যাগ লাগিয়ে ওই এলাকায় রেড এলার্ড জারি করেন। যেকোনো মুহূর্তে ফ্ল্যাড বাইপাচ কেটে দিতে পারে বলে (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে।

Lalmonirhat

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৫টায় তিস্তার পানিপ্রবাহ বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতে পানি বৃদ্ধি পাবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সর্তকীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে। ব্যারাজের ৪৪টি গেই খুলে দিয়ে পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পানিবন্দি ও ভাঙনের শিকার প্রায় ৫ হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে গাইডবানে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি এসব মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

Lalmonirhat

পানিবন্দি ও ভাঙনের শিকার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, ঠাংঝাড়া, পাসশেখ সুন্দর, নিজ শেখ সুন্দর, গড্ডিমারী, চর গড্ডিমারী, নিজ গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, ধুবনী, চর সিন্দুনা, হলদীবাড়ী, পাটিকাপাড়াও ডাউয়াবাড়ী, বিছন দই, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার, চর বৈরাতী, শৈইল মারী, কাকিনা এলাকায় বন্যাতদের মাঝে কোনো সরকারি বা বে-সরকারি ত্রাণ এখনো পৌঁছায় নি।

এদিকে নীলফামারী জেলার খড়িবাড়ী, চর খড়িবাড়ী, শটিবাড়ী এলাকার কয়েক হাজার পরিবার লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ এলাকার হ্যালিপ্যাড মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

Lalmonirhat

সরকারি ত্রাণ বন্যার্তদের মাঝে না আসায় হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হক নিজ উদ্যাগে ৫০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, চিড়া ও গুড় বিতরণ করেন।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোববার বিকেলে তিস্তার পানি প্রবাহ বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সন্ধ্যায় আবারো তিস্তার পানি বাড়তে পারে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। আরো ত্রাণের জন্য উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে।

রবিউল হাসান/এসএস/এবিএস

আরও পড়ুন