প্রেমিকের বাড়ি থেকে যৌতুক চাওয়ায় প্রেমিকার আত্মহত্যা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রেমিকের বাড়ি থেকে যৌতুকের জন্য দেড় লাখ টাকা চাওয়ায় শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ললিতা চন্দ্র বর্মন (১৮) ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন।
সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন বিভাগে তার মৃত্যু হয়। নিহত ললিতা ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ এলাকার রুমা গার্মেন্টসের শ্রমিক এবং একই এলাকার জামানের বাড়ির ভাড়াটিয়া নৈশপ্রহরী চন্দ্র বর্মনের মেয়ে।
এদিকে স্থানীয় একটি চক্র ঘটনাটি ধামা দিতে তড়িঘড়ি করে ললিতার মরদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
জানা যায়, ফতুল্লার পশ্চিম ধর্মগঞ্জ এলাকার পল্টুস নামে এক ছেলের সঙ্গে ললিতার প্রেম ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি উভয় পরিবারে জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিয়ের দিন তারিখ ধার্য হয়। কিন্তু ১২ দিন আগে পল্টুসের পরিবার থেকে ললিতার মোবাইলে ফোন করে বিয়ের যৌতুক বাবদ নগদ দেড় লাখ টাকা ও এক ভরি স্বর্ণালংকার দাবি করে।
একথা শুনে তাৎক্ষণিক ললিতা বাথরুমে গিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভেঙে ললিতাকে উদ্ধার করে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করায়। পরে সোমবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ললিতার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে ললিতার ছোট ভাই নারায়ণ চন্দ্র বর্মন জানান, ললিতার মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসে মাসদাইর শ্মশানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। সেখানে তদন্ত করে জেনেছি, ললিতা রান্না করার সময় কাপড়ে আগুন লেগে পুড়ে যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
শাহাদাত হোসেন/এফএ/পিআর