ভুল চিকিৎসায় স্কুল শিক্ষকের মৃত্যুর অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসাপাতালে ভুল চিকিৎসায় আব্দুল হাই নামে এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা নেয়ার পর মঙ্গলবার সকালে ওই স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়। তবে চিকিৎসকদের দাবি শিক্ষকের সঠিক চিকিৎসা দিয়েছেন তারা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকরা ওই শিক্ষককে হৃদরোগের ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। আসলে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হননি। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই শিক্ষককে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে চাইলে ওই চিকিৎসকরা বাধা দেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান জানান, চিকিৎসকরা বয়সে নবীন হওয়ার কারণে হয়তো রোগীর সঠিক রোগ বুঝতে পারেননি। এ ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
নিহতের মেয়ে সুরাইয়া খাতুন জানান, শুক্রবার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তার বাবা স্কুল শিক্ষক আব্দুল হাই। প্রথমদিকে চিকিৎসকরা তাকে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা দেন। পরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানানো হয়, রোগীর হৃদরোগজনিত সমস্যা রয়েছে। সমস্যার শুনে রোগীকে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু চিকিৎসকরা তাতে নাকচ করে এখানেই চিকিৎসা চালিয়ে যান। পাঁচদিন পর মঙ্গলবার সকালে রোগী মারা যান।
চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে তার বাবা মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেন স্কুল শিক্ষকের মেয়ে সুরাইয়া খাতুন।
রোগীর স্ত্রীর ছোট ভাই জাকির হোসেন জানান, ডায়াবেটিসের চিকিৎসক হয়ে হৃদরোগের চিকিৎসা দেয়ার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকরাই দায়ী। তিনি ভুল চিকিৎসকদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডাঃ গালিব ও ডাঃ জিয়া উদ্দিন মাসুদ জানান, রোগীকে সঠিক চিকিৎসাই দেয়া হয়েছে। তার রোগ মুক্তির জন্য সকল চেষ্টাই করা হয়েছে। তবে ভুল চিকিৎসা বা গাফলতির কথা অস্বীকার করেন তারা।
নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ জিল্লুর রহমান জানান, যেসব চিকিৎসক এই রোগীর চিকিৎসা করেছেন। তারা হয়তো বুঝতে পারেননি রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। যে কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম রতন জানান, ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাদল ভৌমিক/এএম/এবিএস