হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি : পাঁচজনের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মাইক্রোবাসচালক সোহেল রানা হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক হাফিজুর রহমান বুধবার বিকেলে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী সারিয়াকান্দি উপজেলার শোলার তাইড় গ্রামের খায়রুজ্জামান খোকা প্রামাণিকের ছেলে আবু জিন্নাত হোসেন ওরফে জুয়েল (৩৩)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- একই উপজেলার কুতুবপুর পশ্চিমপাড়ার আব্দুস সাত্তারের ছেলে সোহেল রানা (২৯), কুতুবপুর বাজারের আব্দুস সামাদ সরকারের ছেলে সামছুল আলম ওরফে পিন্টু (৩০), কুতুবপুর নতুনপাড়ার মোসলেম উদ্দীনের ছেলে তোজাম (৪০), ফেলুবাড়ি এলাকার সানোয়ার হোসেন ওরফে সানুর ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে রানা (২৯) এবং কালীতলা বরবেড় এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মানিক ওরফে মালেক (৩৩)। আসামিদের সকলেই পলাতক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ৮-১০ যুবক ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বগুড়া সদর উপজেলার ডাকুরচক এলাকার মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে মাইক্রোবাসচালক সোহেল রানাকে চুক্তি করে। ওই রাতেই ঢাকা যাওয়ার পথে সোহেল রানাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাকে নিয়ে সারিয়কান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে মরদেহ ও মাইক্রোবাস ফেলে রেখে যায় তারা।
পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বিপ্লব সরদার সারিয়কান্দি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে মামলাটি বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান এই মামলায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ ৮ বছর পর আদালতে সাক্ষীদের বক্তব্যে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক রায় ঘোষণা করেন।
সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. রেজাউল হক এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. পদ্ম কুমার দেব ও অ্যাড. শান্ত দেব।
এআরএ/আরআইপি