বন্যায় পানিবন্দী ৬ লাখ : ২ শিশুর মৃত্যু
টানা ১০ দিন ধরে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে কুড়িগ্রাম সদর ও নাগেশ্বরী উপজেলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলার ৯ উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের প্রায় ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।
বুধবার বিকেলে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারি পয়েন্টে বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।
রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান জানান, বুধবার মধ্যরাতে বাঘমারা গ্রাম নামক স্থানে রৌমারী শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে গোটা উপজেলা চত্বর, উপজেলা ভূমি অফিস, পোস্ট অফিস, রৌমারী বাজার, রৌমারী ডিগ্রি কলেজ, রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৮টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
ফলে রৌমারী উপজেলার সব ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অপরদিকে রাজিবপুর উপজেলা চত্বর, উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস, খাদ্যগুদাম, পোস্ট অফিস, রাজিরপুর বাজার, রাজিবপুর ডিগ্রি কলেজেও পানি ঢুকেছে।
অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ৯ উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের প্রায় ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। নিচু এলাকার লোকজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলেও আশ্রয়স্থলে পানি ওঠায় আরো দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসীদের। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে ৫০০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার ঘর-বাড়ি। সেই সঙ্গে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ভেলাকোপা ব্রিজের সংযোগ সড়কটি ধসে যাওয়ায় ১০ গ্রামের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নওদাবস চরে বন্যার পানির মধ্যেই বসবাস করছে শতাধিক পরিবার। অনেক পরিবার তাদের গবাদি পশু উঁচু স্থানে আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে এসেছে। টানা বন্যায় হাতে কাজ না থাকায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে পরিবারগুলো।
নওদাবস চরের আজগার আলী জানান, বন্যার ফলে হাঁস-মুরগি মরে গেছে। পরিবারে পাঁচজনের খাবার জোটাতে হয়। হাতে কাজ নেই। ধারদেনা করে আর কতদিন চলে। আমরা তো বাংলাদেশের নাগরিক। কর্তৃপক্ষ কি আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকাবে না।20160727210940.jpg)
কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে আশ্রয় নেয়া আবেদ আলী বলেন, বাড়িতে ৭-৮ দিন কষ্ট করে থাকার পর দুই দিন ধরে পাকা সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছি। কোনো চেয়ারম্যান মেম্বারের দেখা মেলেনি।
কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানায়, সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ৫০০ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ টাকার মধ্যে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা বন্যা কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব মোল্লা জানান, জেলার এক হাজার ১৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে আছে। শুধুমাত্র পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ২ হাজার ৯০ জন। এছাড়া নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৬ হাজার ৯০টি।
নাজমুল হাসান/এএম/আরআইপি