লক্ষ্মীপুরে ৩ নারীর মরদেহ উদ্ধার
লক্ষ্মীপুর জেলার পৃথক স্থান থেকে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে নাজমা আক্তার (২৭) ও স্কুলছাত্রী ইয়াসমিন আক্তার (১২) নামে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অপরজন অজ্ঞাতপরিচয় (২৬)।
শনিবার সকাল এবং দুপুরে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিকেলে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তবে এসব ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর পৌর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসেন হায়দারের শাহপুর এলাকার সুপারি বাগানের ভেতর পুকুরে শনিবার দুপুরে অজ্ঞাত যুবতীর (২৬) মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের গায়ের জামা ছেড়া এবং ট্রি-শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা ছিল। তবে তার নাম-পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
একই সময় রায়পুর উপজেলার চরইন্দুরিয়া গ্রাম থেকে স্কুলছাত্রী ইয়াসমিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই গ্রামের মফিজ বেপারীর মেয়ে এবং দক্ষিণ চর ইন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াহিয়া জানান, স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দেয়ার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। তবে কি কারণে আত্মহত্যা করেছে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এদিকে জেলার রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের পূর্ব সাগরদী গ্রাম থেকে নাজমা আক্তারের গলায় ফাঁস লাগানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কাতার প্রবাসী জাফর হোসেনের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।
নাজমার বাড়ির লোকজন জানায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কয়েক দিন ধরে নাজমার সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়ির বাধানুবাদ হয়। এজন্য বিদেশ থেকে ফোন করা স্বামী তাকে শাসন করে। এর জের ধরে অভিমান করে শুক্রবার রাতের যেকোনো সময় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন নাজমা।
এ ব্যাপারে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) খন্দকার গোলাম শাহ নেওয়াজ বলেন, অজ্ঞাত যুবতীর নাম-পরিচয় শনাক্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে যায়। অন্য দুটি আত্মহত্যার ঘটনা।
তিনি আরো বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসব ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কাজল কায়েস/এএম/এমএস