ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যশোরে হিযবুত তাহরীরের তিন সদস্যের আত্মসমর্পণ

প্রকাশিত: ১২:০২ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৬

যশোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরে তিন সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। সংগঠনটির মোশরেফ ও সাবাব পদবির তিনজন ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আত্মসমর্পণ করেছেন।

তারা হলেন- যশোর শহরতলির খোলাডাঙ্গা কদমতলা এলাকার মৃত শফিয়ার রহমানের ছেলে সাদ্দাম ইয়াসির সজল (৩২)। তিনি হিযবুত তাহরীরের মোশরেফ সদস্য। অপর দুজন সংগঠনের সাবাব সদস্য। তারা হলেন- যশোর শহরতলির ধর্মতলা মোড় এলাকার আবদুস সালামের ছেলে রায়হান আহমেদ (২০) ও যশোর শহরতলির কদমতলা এলাকার একেএম শারাফত মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান পলাশ (২০)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিন জঙ্গি সদস্যের আত্মসমর্পণের ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান বলেন, তিন জঙ্গি সদস্য ভুল পথে গেছে বুঝতে পেরেছে। তারা অনুতপ্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। এজন্য তারা পুলিশের সহায়তা চেয়েছে। আমরা তাদের আইনি সহায়তা করবো।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক মহোদয় ঘোষণা দিয়েছেন, যারা জঙ্গির পথে চলে গেছে, তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে আইনি সহায়তা করা হবে। আমরা ওই তিন জঙ্গির অপরাধের ধরর বিশ্লেষণ করে দেখবো। তারপর পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে।

যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তিন জঙ্গির অভিভাবকরা যোগাযোগ করেছে। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পুলিশের সহযোগিতা চায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা আত্মসমর্পণ করেছে।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, আত্মসমপর্ণ করা তিনজনের মধ্যে রায়হানের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। বাকি দুজনের প্রোফাইল খুঁজছি।

যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ঘোষণা শুনে ওই তিনজনের অভিভাবকরা যোগাযোগ করে। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমপর্ণের ব্যবস্থা করা হয়।

যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও সাদ্দাম ইয়াসির সজলের চাচা তরিকুল ইসলাম বলেন, সজলের আব্বা মারা যাওয়ার পর ওদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। এরপর ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি বাড়ি থেকে কয়েক বছর আগে চলে যায়। বাড়ির কেউ জানতো না সজল হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে যুক্ত।

সজলের মাকে ফোনে জানায়, সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। সজলের মা টিভিতে পুলিশের আইজিপির বক্তব্য শুনে আমাকে জানায়। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পুলিশের কাছে আত্মসমপর্ণের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরো বলেন, তিনজনই আমাদের এলাকার ছেলে। ওরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পুলিশের কাছে আইনি সহায়তা চেয়েছে। পুলিশের আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা আত্মসমপর্ণ করেছে।

মিলন রহমান/এআরএ/পিআর