ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঝালকাঠিতে বন্যার পানি কমলেও বেড়েছে নদী ভাঙন

প্রকাশিত: ০৪:৫২ এএম, ১৬ আগস্ট ২০১৬

ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী, কীর্তনখোলা, কালিজিরা, গাবখান, জোড়খালী ও হলতাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে সেই সঙ্গে নতুন নতুন এলাকায় নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে সুগন্ধা ও বিষখালীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর ৮টি পয়ন্টে মোট ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আমন আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সরকারি-বেসকারি ভবন, ফসলি জমি, বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পশ্চিম দেউড়ি ১ কিলোমিটার, উত্তর কিস্তাকাঠি-চরভাটারাকান্দা ১ কিলোমিটার, কিফাইতনগর দেড় কিলোমিটার, নলছিটির হদুয়া মাদরাসা এলাকার ১ কিলোমিটার, কালিজিরা নদীর পশ্চিম পাড় ৪০০ মিটার, কুলকাঠি ২ কিলোমিটার, দপদপিয়া ২ কিলোমিটার, কাটাখালী ৫০০ মিটার ও কাঠালিয়ার শৌলজালিয়া খেয়াঘাট ১ কিলোমিটার এলাকায় নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজাপুর উপজেলার বিষখালী নদী তীরবর্তী পুকুরিজানা থেকে বাদুরতলা পর্যন্ত ৫০০ মিটার, চল্লিশ কাহনিয়া থেকে উত্তরপালট পর্যন্ত ৫০০ মিটার, নাপিতের হাট থেকে মানকি সুন্দর পর্যন্ত ৫০০ মিটার, কাঠালিয়া উপজেলার হলতা নদী তীরবর্তী আমুয়া বন্দর এলাকার ৫০০ মিটার, জোড়খালী নদী তীরবর্তী আমুয়া বন্দরের পশ্চিম তীর এলাকার ১৫০ মিটার, বিষখালী নদী তীরবর্তী সোনার বাংলা এলাকার ৫০০ মিটার ভাঙনের কবলে রয়েছে।

মাত্র ৩ বছর আগে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পশ্চিম দেউড়ি সাইক্লোন শেল্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি এখন বিষখালীর ভাঙনের মুখে। যে কোনো সময় এটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পশ্চিম দেউড়ি এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. রুহুল আমীন বলেন, বন্যা হলেই পানি উঠে ফসলি জমি, বীজতলা, আবাসিক এলাকা তলিয়ে যায়। নদী ভাঙতে ভাঙতে সাইক্লোন শেল্টারের কাছে এসে পৌঁছেছে। পরবর্তী ভাঙনেই সাইক্লোন শেল্টার ধরবে।

Jhalkhathi

কৃষক বৃদ্ধ রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ঝড়-বন্যা হলে আমরা সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেই। এখন সেখানেও ভয় লাগছে। যদি নদীতে ভেঙে যায়।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন খান বলেন, সাইক্লোন শেল্টারের প্রাক্কলন (পরিকল্পনা) তৈরির সময় নদীর তীর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে স্থান নির্বাচন করা হয়। ৩ বছর আগে নির্মাণের সময় এক কিলোমিটারেরও বেশি জায়গা ছিল সাইক্লোন ও নদী ভাঙনের মাঝখানে। এখন ১২/১৫ হাত দূরে ভাঙন চলে এসেছে। রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম নদী ভাঙন বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে জানান, ইতোমধ্যে ভাঙনের পরিমাণ জানিয়ে কয়েকটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এসএস/এমএস

আরও পড়ুন