ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এখন কেবলই দীর্ঘশ্বাস

প্রকাশিত: ০৯:৩৮ এএম, ১৬ আগস্ট ২০১৬

শোকাবহ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর পাল্টে যাওয়া দেশের প্রেক্ষাপটে যখন মুখে টুঁ শব্দ করার উপায় ছিল না তখন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ২৭৬ জন তরুণ অস্ত্র হাতে অন্যদের সঙ্গে বিশাল গারো পাহাড় এলাকায় নেমেছিলেন প্রতিরোধ যুদ্ধে।

অসমাপ্ত এই যুদ্ধে কেউ জীবন হারিয়েছেন, কেউ হয়েছেন পঙ্গু। কেউবা বেঁচে আছেন শুধু জীবনটা নিয়ে। তাদের প্রত্যাশা ছিল, বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় এলেই তারা পাবেন উপযুক্ত সম্মান। কিন্তু তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই এখন তাদের বুকের ভেতর বইছে শুধুই দীর্ঘশ্বাস।

নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রতিরোধ যোদ্ধা কমিটির সভাপতি ফজলুল হক জানান, আমি তখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। এর মধ্যে খবর পেলাম ভারত সীমান্তে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিতে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে যুদ্ধে নেমেছে একদল মুজিব ভক্ত। দেরি না করে বাড়িতে কাউকে না বলে কয়েকজন বন্ধু মিলে চলে যাই সীমান্তে। প্রশিক্ষণ নেই। অস্ত্র হাতে নেমে পড়ি প্রতিরোধ যুদ্ধে।

সে সময় আমার মতো নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ২৭৬ জন তরুণ যুদ্ধ করে। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ অসমাপ্ত রেখেই তাদের চলে আসতে হয়। দেশে এসে ভোগ করতে হয় নির্যাতন এবং কারাভোগ।

তিনি বলেন, এরপরও আমরা প্রতীক্ষার প্রহর গুণি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসবেন। আমাদের দেবেন উপযুক্ত সম্মান। ১৯৯৬ সালে আমাদের প্রত্যাশার সরকার ক্ষমতায় এল। আমরা খুশিতে আত্মহারা হলাম। কিন্তু ওই পর্যন্তই। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানান।

উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের গুজাকুড়া গ্রামের প্রতিরোধ যোদ্ধা চিরকুমার নিবারণ চন্দ্র ভদ্র। বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়েছি। বঞ্চিত হয়েছি সংসার জীবন থেকে। এখন বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরছি। তবুও হৃদয়ে আমার বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী হিসেবে যদি একটু স্বীকৃতি নিয়ে মরতে পারতাম, তাহলে জীবনটাকে স্বার্থক মনে হতো।

চকপাড়া গ্রামের আব্দুল হাই। তখন ছিলেন এক প্রদীপ্ত যুবক। প্রতিরোধ যুদ্ধ করেছেন অসীম সাহসিকতার সঙ্গে। এখন একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাহারাদারের চাকরি করছেন।

তিনি বলেন, জন্মের পর থেকেই বঙ্গবন্ধুকে বুকে লালন করে বড় হয়েছি। তাই বঙ্গবন্ধু এবং তার সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারিনি। এখনও বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও তার পরিবারকে নিয়ে কেউ কটাক্ষ করলে মাথায় রক্ত উঠে যায়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই আমাদের সব কষ্টের লাঘব করে দিতে পারেন।

প্রতি বছর শোকের মাস আগস্ট আসে। সারাদেশ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসায় এক হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীরাও তাদের নিজেদের ব্যানারে এক হয়। সেই প্রতিরোধের দিনগুলোর কথা এবং বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে কখনাে প্রচণ্ড আবেগে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন আবার কখনও হেসে ওঠেন।

এভাবেই তাদের জীবন থেকে চলে যাচ্ছে বছরের পর বছর। কিন্তু শেষ হচ্ছে না তাদের কষ্টের দিন। মিলছে না ন্যূনতম স্বীকৃতিটুকুও। তাদের দাবি, আমরা সবাই এখন জীবনের শেষ প্রান্তে। শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধা, বীরঙ্গনাসহ সবাইকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। আমরাও তার কাছে একটু সম্মান চাই। চাই স্বীকৃতি।

এসএস/পিআর

আরও পড়ুন