বঙ্গোপসাগরে দুটি ট্রলারসহ ১৬ জেলে নিখোঁজ
ফাইল ছবি
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগরে এফবি অভি ও এফবি ভাই-বোন নামে দুইটি ট্রলারসহ ১৬ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার ভোরে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ১২০ কি.মি. দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের আলোরকোল এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার দুইটি নিখোঁজ হয়।
নিখোঁজ ট্রলার ও জেলেদের সন্ধানে জেলা ট্রলার মালিক সমিতির উদ্যোগে একটি উদ্ধারকারী ট্রলার পাঠানো হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে সেলিম মাঝি (৫৫), মিলন (৩০), হাসান (৪০), হামেস (৫৫), আবুল (৫০), মালেক (৪০), পনু (৫০) ও নান্নার (৪০) নাম জানা গেছে। তাদের সকলের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
ডুবে যাওয়া ট্রলার এফবি অভি থেকে উদ্ধার হওয়া জেলে হারিছ জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে সাগরের প্রচণ্ডতা বেড়ে যায়। একই সময় পূবালী ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকলে ঢেউয়ের তোড়ে ইন্ডিয়ান সমুদ্র সীমায় ঢুকে পড়ে তাদের ট্রলারটি। কিন্তু ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশনাল জটিলতার ভয়ে তারা পূনরায় বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ফেরার চেষ্টা করে।
এসময় প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে তাদের ট্রলারটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পরে তারা তাদের ট্রলার নিয়ে দীর্ঘ সময় উত্তাল সাগরে ভাসতে থাকে। এসময় এফবি মায়ের দোয়া নামের আরেকটি ট্রলার তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক চেষ্টা করে তিনিসহ ৯ জেলে ওই ট্রলারে উঠে আসতে সক্ষম হন। বাকি আট জেলে আর উঠে আসতে পারেননি।
তিনি বলেন, সাগরে ঢেউয়ের প্রচণ্ডতা এতই বেশি ছিলো যে মায়ের দোয়া ট্রলারটি তাদের ট্রলারের পাশে কিছুতেই ভিড়তে পারেনি।
এদিকে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, এফবি অভিসহ এফবি ভাই-বোন নামের অপর একটি ট্রলার এবং ওই ট্রলারে থাকা আরো আট জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
গভীর নিন্মচাপের প্রভাবে বরগুনার প্রধান দুইটি নদী বিষখালী ও পায়রায় বিপদ সীমার ৪২ সে.মি. উপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে প্লাবিত হয়েছে জেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল। তলিয়ে গেছে জেলা শহরের একাধিক সড়ক। জোয়ারের সময় ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় বরগুনা-আমতলী-ঢাকা এবং বরগুনা- খুলনা রুটের দুটি ফেরি প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
কলাপাড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গভীর নিন্মচাপটি উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। নিন্মচাপটির কেন্দ্রের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশেও তিনটি সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এফএ/আরআইপি