নওগাঁয় অটোরিক্সা-সিএনজি মালিক শ্রমিক সংঘর্ষ-ভাঙচুর
নওগাঁয় সিএনজি-বেবি ট্যাক্সি মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে চার্জার-ভ্যান মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের সংঘর্ষে পাঁচজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ সময় অর্ধশতাধিক সিএনজি ও বেবিট্যাক্সি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সিএনজি-বেবি ট্যাক্সি মালিক সমিতির নেতারা।
শনিবার দুপুরে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল থেকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মোড়ে প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলে বাধা দিচ্ছিল সিএনজি-বেবি ট্যাক্সি মালিক সমিতির লোকজন। এ নিয়ে দু’পক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে সিএনজি-বেবি শ্রমিকরা ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ছয়-সাতটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে।
এরপর দুপুর ১টার দিকে শহরের তাজের মোড় থেকে ব্যাটারিচালিত অটোচার্জার মালিক সমিতি ও ব্যাটারিচালিত অটোচার্জার শ্রমিক সমিতির লোকজন এসে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সিএনজি-বেবি ট্যাক্সি স্টেশনে হামলা চালিয়ে সিএনজি ও বেবি ট্যাক্সি ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় সিএনজি ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিকরাও তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করে।
প্রায় আধা ঘন্টা ধরে দু’পক্ষের মধ্যে চলা সংঘর্ষে সিএনজি-বেবি ট্যাক্সি মালিক সমিতির পাঁচ পরিবহন শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং শতাধিক সিএনজি ও বেবি ট্যাক্সি ভাঙচুর করা হয়েছে। পরে দাঙ্গা পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিএনজি-বেবি ট্যাক্সি মালিক সমিতির নেতাদের অভিযোগ, পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে শহরের কোন রাস্তায় কোন ধরণের যান চলাচল করতে পারবে।
সিএনজি-বেবি ট্যাক্সি মালিক সমিতির সভাপতি মাসুদ হোসেন বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিশা মালিক-শ্রমিক সংগঠনের লোকজনের হামলায় রতন ইসলাম, স্বপন মন্ডল, সামসুল হক, দুলু ও মন্টু নামে তাদের পাচজন পরিবহন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এছাড়া তাদের সংগঠনের অর্ধশতাধিক সিএনজি ও বেবি ট্যাক্সি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির কোষাধাক্ষ্য মিলন রহমান বলেন, সিএনজি-বেবি ট্যাক্সি মালিক সমিতির লোকজন অটোরিকশা ভাঙচুর শুরু করলে আমাদের লোকজন সেখানে বাধা দিতে গেলে তারা মারধর করতে শুরু করে। আমাদের লোকজন সিএনজি বা বেবি ট্যাক্সি ভাঙচুর করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোরিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা যাতে আর না ঘটে এ জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে।
আব্বাস আলী/এএম/এবিএস