অস্ত্রোপচারে পৃথক হওয়া সেই দুই শিশু মনি-মুক্তার জন্মদিন আজ
দিনাজপুরে জোড়া লাগা সেই জমজ দুই বোন মনি-মুক্তার জন্মদিন আজ। দেখতে দেখতে জীবনের ৬ বছর পার করে নতুন বছরে পা রাখলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা হওয়া এই দুই শিশু।
এবার নানা বাড়ি পার্বতীপুরেই সপ্তম জন্মদিনের কেক কাটবে তারা। মামা তপন কুমার পাল আয়োজন করেছেন জন্মদিনের অনুষ্ঠান।
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পৃথক হওয়ার পর তাদের সুস্থ থাকা ও বিদ্যালয়ে যাওয়াকে সফলতা হিসেবে দেখছে এলাকাবাসী। ছয় বছর বয়সী মনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের হলেও মুক্তা বেশ ডানপিটে ও সাহসী হয়ে উঠেছে।
বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের জয় প্রকাশ পালের স্ত্রী কৃষ্ণা রানী ২০০৯ সালের ২২ আগস্ট দিনাজপুরের পাবর্তীপুর ল্যাম্প হাসপাতালে পেটে জোড়া লাগানো জমজ দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নাম রাখেন মনি ও মুক্তা।
পরে ল্যাম্প হাসপাতালের সহযোগিতায় গত ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানেই ২০১০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসক অধ্যাপক এম.আর খান সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো এই জমজ দুই বোনকে পৃথক করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেন।
২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে মনি-মুক্তা বাড়ির পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এর আগে তারা বাড়ির পার্শ্ববতী প্রেম কাঙ্গাল দূর্গা মন্ডপ আশ্রম সংলগ্ন বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্দির ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রে পড়ালেখা শুরু করে। এখন তারা পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ২য় শ্রেণির ছাত্রী।
তাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধনঞ্জয় পাল ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলি আকতার জানান, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মনি-মুক্তা নিয়মিত ক্লাস করছে। তারা পড়ালেখায় বেশ ভাল। তাদের সহপাঠীরা তাদেরকে খুব ভালোবাসে। মনি একটু শান্ত হলেও মুক্তা বেশ চটপটে।
মনি-মুক্তার বড় বোন বিসা রাণী পাল ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে জানায়, তার দুই বোন যখন জন্মগ্রহণ করে সে সময় মানুষ নানা রকম কথা বলেছে। অনেকে বলেছে তারা মন্দ কাজের ফল। কিন্তু এখন সেই মানুষগুলোই মনি-মুক্তাকে দেখলে লজ্জাবোধ করে। আমার বোন দুটো আমাদের পরিবারের জন্য আশির্বাদ।
তাদের তিন বোনের একমাত্র বড় ভাই সজল কুমার পাল এবার এইচএসসি পাস করেছেন।
মনি-মুক্তার মা কৃষ্ণা রাণী ও বাবা জয় প্রকাশ পাল জানান, মনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের হলেও মুক্তা বেশ ডানপিটে ও সাহসী।
কৃষ্ণারাণী সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এবার মেয়েদের জন্মদিন পালন করার জন্য যে উপজেলায় তাদের জন্ম সেই পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রামরায়পুর গ্রামে বাবার বাড়িতে যাচ্ছি। তাদের মামা তপন কুমার পাল জন্মদিন পালনের আয়োজন করেছেন।
এফএ/এমএস