ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ৩১ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য!

প্রকাশিত: ১২:৩৭ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩১ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাদের অভিভাবকরা। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে নিজেদের কারণেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন এসব শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় আখাউড়া শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের বিজ্ঞান শাখা থেকে ৪৯ জন অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ হলেও বাকি ৩১ জন শিক্ষার্থী রসায়ন বিষয়ের প্রথম পত্রে অকৃতকার্য হয়েছেন। অকৃতকার্য প্রত্যেকে রসায়ন প্রথম পত্রে ৬ থেকে ৮ নম্বর পেয়েছেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে অকৃতকার্য কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় জাগোনিউজের এ প্রতিবেদকের।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থী আলমগীর জাগোনিউজকে বলেন, আমরা ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জনেরই রসায়ন বিষয়ের প্রথম পত্রের ফালফল খারাপ হয়েছে। আমাদের মনে হচ্ছে পরীক্ষার খাতা দেখায় কোনো একটা ভুল হয়েছে।

অপর এক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ফখরুল বলেন, আমাদের রসায়ন প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু তারপরও কিভাবে আমরা সেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলাম সেটি বোধগম্য হচ্ছে না। আমরা অকৃতকার্য সকল শিক্ষার্থী কেবল রসায়ন প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ৬-৮ নম্বর পেয়েছি।

এতগুলো শিক্ষার্থী শুধুমাত্র রসায়নেই কেনো অকৃতকার্য হয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক শামছুল আরেফিন জাগোনিউজকে বলেন, অকৃতকার্য এসব শিক্ষার্থীরা কখনেই কলেজে ঠিকমতো ক্লাস করেনি। এছাড়া পরীক্ষার খাতায় ভালোভাবে লিখেনি বলেই তারা অকৃতকার্য হয়ে থাকতে পারে।

তবে অকৃতকার্য কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এসব পরীক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছে। যদি নিয়মিতভাবে সব পরীক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হতো তাহলে তারা অবশ্যই উত্তীর্ণ হতো।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হওয়ায় তিনি প্রতিনিয়ত কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে বসে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিংসহ খোশ-গল্পে মেতে থাকেন। অধ্যক্ষের কক্ষটি উপজেলা আওয়ামী লীগের ‘ক্যাম্প অফিস’ বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন জাগোনিউজকে বলেন, বাংলাদেশের সব বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষরাই কোনো না কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এটা নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অধ্যক্ষের কক্ষে বসে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিংসহ খোশ-গল্পে মেতে থাকার বিষয়টি একটি বিশেষ মহলের চক্রান্ত।

এছাড়া অভিভাবকদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে আমরা সব শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর রাখি। ওই ৩১ শিক্ষার্থী রসায়ন ছাড়া অন্য বিষয়েও অকৃাতকার্য হয়েছে। তবে কী কারণে ওই শিক্ষার্থীদের সবাই রসায়নেই অকৃতকার্য হয়েছে সেটি পরীক্ষার খাতা পুনঃনীরিক্ষণের মাধ্যমেই জানা যাবে।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অ্যাড. আনিসুল হক মুঠোফোনে জাগোনিউজকে বলেন, ৩১ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার কথা আমি শুনেছি, আমি এগুলো দেখবো।

অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বসে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, উনি (অধ্যক্ষ) দলও করেন আবার কলেজও করেন। বিপদটাইতো সেখানে। পুরো ব্যাপারটিই আমি দেখবো।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/পিআর