ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উচ্চশিক্ষায় ভূমিকা রাখছে মহাদেবপুর কলেজ

জেলা প্রতিনিধি | মানিকগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৫:২৫ এএম, ২৪ আগস্ট ২০১৬

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন বিশাল ক্যাম্পাস নিয়ে গড়ে ওঠেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজটি। নিয়মতি ক্লাস আর শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি কলেজটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

চর্চা হয় সুস্থ ধারার রাজনীতির। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত তেমন সমস্যা না থাকলেও রয়েছে ছাত্রাবাস সংকট। প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছর পর এবার কলেজটি জাতীয়করণের ঘোষণায় খুশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ।

মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭২ সালে। মানিকগঞ্জ-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এ.এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বাবা তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এ এম সায়েদুর রহমান, শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুর রশিদ লেবুসহ স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ভগ্নিপতি তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রউফ সেনিয়াবাদ।

সাড়ে ৬ একর জমি নিয়ে মানিকগঞ্জের প্রাচীনতম এ বিদ্যাপিঠের ক্যাম্পাস। সামনে খেলার মাঠ আর পেছনে রয়েছে দুটি পুকুর। পাকা-আধাপাকা মিলিয়ে ভবনের সংখ্যা ৪টি। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৪৭ জন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে ১৬ জন।

২০১২ সালে কলেজটিতে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম অনার্স কোর্স শুরু হয়। বর্তমানে ব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়সহ মোট ৫টি অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে মার্কেটিং, অর্থনীতি ও দর্শন বিষয়গুলো।

এছাড়া বিএ, বিবিএস, বিএসএস, ইন্টার, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে। কম্পিউটার, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, হিসাব বিজ্ঞান ও সেক্রেটারিয়াল সাইন্স বিষয়ে ৪টি ট্রেড চালু রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৭০০জন।

নদী ভাঙন আর কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অচ্ছল পরিবারের সন্তান। তারপরও লেখাপড়া ও পরীক্ষার ফলাফলে কলেজটি তাদের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছে। চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৮৩.৯৬। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন শিক্ষার্থী।

মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজে বর্তমানে কোনো ছাত্রাবাস নেই। এর আগে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থীর বাসযোগ্য একটি টিনসেট ঘর ছাত্রবাস হিসেবে ব্যবহার হতো। ঘরের মেঝে ও টিনের বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটিও এখন পরিত্যাক্ত। ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাসের অভাবে পড়েন চরম বিপাকে। তবে স্থানীয়রা মনে করেন, কলেজটি সরকারীকরণ হওয়ায় সরকারের সুদৃষ্টি পড়বে। এতে পযায়ক্রমে সমাধান হবে সমস্যাগুলো।

collegeস্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন জানান, কলেজটি সরকারিকরণ হওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছি। আমাদের ছেলে মেয়েরা এখন সরকারি কলেজে কম খরচে লেখাপড়া করতে পারবে।

এ কলেজের পরিচালনা কমিটিতে বরাবরই স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমান সভাপতি সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়।

মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান জানান, গত ৮ বছরে কলেজের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। চারতলা নতুন ভবন, পুরনো ভবন সম্প্রসারণ, ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি টিনসেট ঘর, সীমানা প্রাচীর, মাঠের মাটি ভরাট হয়েছে এই সময়ের মধ্যে।

তিনি জানান, উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে এখানে লেখাপড়া করতে আসে অনেক শিক্ষার্থী। কলেজ সংসদ থাকলেও সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চা হয়। কোনো রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতা নেই বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘ দিন পরে হলেও কলেজটি জাতীকরণ হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অধ্যক্ষ ধন্যবাদ জানান।

শিবালয়ের মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হালিমুর রহমান ডিউক জানান, মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজটি অত্র এলাকার শিক্ষা প্রসারে বিশেষ করে নারী শিক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তিনি কলেজটির শিক্ষার মান আরো বাড়াতে সরকারের দৃষ্টি কামনা করেন।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম গালিভ খান জানান, কলেজটি জাতীয়করণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। এতে অত্র উপজেলাসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। সরকারিকরণ হওয়ায় শিক্ষার মানও বাড়বে। কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয় জানান, মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজটি সরকারিকরণ হওয়ায় নদী ভাঙনের শিকার অনুন্নত ও দারিদ্র পীড়িত এলাকার ছেলে-মেয়েরা সরকারি সুযোগ সুবিধায় উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে।

কলেজটিকে জাতীয়করণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আজ সেই দাবি পূরণ করেছে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

এসএস/এমএস

আরও পড়ুন