ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জলাবদ্ধতা নিরসনে ভবদহ অঞ্চলের পলি অপসারণ

প্রকাশিত: ০২:৩৬ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০১৬

যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে পলি অপসারণ কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার তিনটি উভচর (এমফিভিয়েন) মেশিন দিয়ে এই পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়। ভবদহ স্লুইস গেট এলাকায় এই পলি অপসারণ কাজের উদ্বোধন করেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে ভবদহ স্লুইস গেট এলাকায় পলি অপসারণে তিনটি উভচর (এমফিভিয়েন) মেশিন আনা হয়। তবে কেশবপুরে হরিহর, ভদ্র ও শ্রীহরি নদীর পলি অপসারণ কাজ এখনো শুরু হয়নি। মঙ্গলবার নাগাদ ওই এলাকায় পলি অপসারণ কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কেশবপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে পলি অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হরিহর, আপার ভদ্রা, বুড়ি ভৈরব নদের সংযোগস্থল থেকে দক্ষিণে ৮ কিলোমিটার কাশিমপুরে শ্রীনদীর সংযোগ স্থল পর্যন্ত ড্রেজিং করে পলি অপসারণ করা হবে। এজন্য একটি ড্রেজিং মেশিন আনা হয়েছে। সেটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। আশা করছি মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু হবে।

দুই দফার ভারি বর্ষণে যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার আড়াইশটির অধিক গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। খাবার, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, যোগাযোগ, ফসল, মাছের ঘের পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংকট বেড়েই চলেছে। সর্বস্বান্ত মানুষের হাহাকার নিবারণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জনপদের পানি নিষ্কাশন জরুরি বলে মনে করছেন বানভাসিরা।

সোমবার দুপুরে ভবদহ এলাকার ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য ভবদহ স্লুইস গেটের পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ভবদহ স্লুইস গেটের পলি অপসারণে তিনটি উভচর (এমফিভিয়েন) মেশিন আনা হয়।

সোমাবর পলি অপসারণ কাজের উদ্বোধন করেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য। এসময় হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভবদহ স্লুইস গেট এলাকায় ভিড় করে। সেখানে উপস্থিত জলাবদ্ধতার শিকার মনিরামপুরের কাটেঙ্গা গ্রামের হাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়ার ভদ্রা নদী সংলগ্ন কেওড়াতলা পর্যন্ত পলি অপসারণ করা হলে তাদের বাড়ি-ঘরে জমে থাকা পানি নেমে যাবে। দত্তাগাতি গ্রামের নিরঞ্জন হালদার বলেন, ড্রেজিং শুরু হয়েছে। কাজটুকু শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্যে হলে দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

এ প্রসঙ্গে ভবদহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতলেব সরদার বলেন, এটি সাময়িকভাবে বন্যাকবলিত মানুষের উপকারে আসবে। দীর্ঘমেয়াদি সুফল আনায়নে টিআরএমের বিকল্প নেই।

জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, পলি অপসারণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এটি স্বল্প মেয়াদি কাজ। এতে বন্যাকবলিত মানুষ উপকৃত হবে। তবে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএমের বাস্তবায়ন জরুরি। পরবর্তীতে সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মিলন রহমান/এআরএ/এবিএস