ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কুড়িগ্রামে সাজ সাজ রব : প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন কাল

প্রকাশিত: ০২:১৬ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

আগামী কাল ৭ সেপ্টেম্বর বুধবার কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে ১০ টাকা মূল্যে চাল বিতরণের ‘ফেয়ার প্রাইজ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।  

এ উপলক্ষে কুড়িগ্রাম এখন উৎসবের শহর। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জেলার সর্বত্র রঙ-বেরঙের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণে ভরে গেছে পুরো জেলা। চিলমারীতে এখন সাজ সাজ রব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটাই প্রথম চিলমারী সফর।

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে জেলার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সেই সঙ্গে প্রত্যাশাও অনেক। এ সফরের মধ্য দিয়ে চিলমারী জনপদের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের পরিবর্তন হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

ইতোমধ্যে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থান থেকে সমাবেশস্থলের মঞ্চসহ গোটা চিলমারী এলাকা। হাওয়া লেগেছে কুড়িগ্রাম জেলা শহরেও। জেলা শহর থেকে চিলমারী উপজেলা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কে শোভা পাচ্ছে রঙ-বেরঙের গেট ও তোরণ। নানা স্লোগান ও দাবি সম্পৃক্ত ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।  

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ চিলমারী থেকে শুরু হবে দরিদ্র মানুষদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হত-দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবার ১০টাকা কেজিতে মাসে ৩০ কেজি চাল সহায়তা পাবে।

KURIGRAM

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর চিলমারী সফরসূচি ঘোষণার পর থেকে সাজ সাজ রবের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দেয়াল নির্মাণ থেকেই শুরু হয় এই আমেজ। পরবর্তীতে হেলিপ্যাড সংস্কারসহ সুধি সমাবেশের জন্য নির্ধারিত থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ, পুরাতন ভবন ও সমস্ত দেয়ালে তুলির আচঁরে রাতারাতি দৃষ্টি নন্দন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

একই সঙ্গে রাস্তা-ঘাটগুলি সংস্কার করায় পরিচ্ছন্ন একটি উপজেলা হয়েছে চিলমারী। রাস্তার দুই ধারের অবৈধ দোকানপাটগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এই সফরে এখানকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। খেটে খাওয়া মানুষদের মুখে মুখে ‘আমরা রিলিফ চাই না, কর্মসংস্থান চাই’।

চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার অপেক্ষায় চিলমারীবাসী। চিলমারী বন্দর আবার চালু করলে এবং আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব চিলমারীর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন ঠেকানো ও পশ্চিম তীর সংরক্ষণ কাজ শুরুর দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ-কমিটির প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ নলেজ বলেন, দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর নক্শায় রেলপথ যুক্ত করলে ঢাকার সঙ্গে ২০০ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে। গণ-কমিটির পক্ষ থেকে এই দাবি তুলে ধরা হবে। এছাড়া চিলমারী থেকে ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু, বন্দর বাস্তবায়ন, নদী খনন কাজ তরান্বিত করার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় মোট এক লাখ ২৫ হাজার ২৭৯টি পরিবার খাদ্যবান্ধব কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সৃজনশীল এই কর্মসূচির সুফল পাবেন। এর মধ্যে চিলমারী উপজেলার আট হাজার ২১ জন দরিদ্র পরিবারকে এই কার্ড দেয়া হয়েছে।

এছাড়া কুড়িগ্রাম সদরে ১৭ হাজার ৭২২টি, নাগেশ্বরীতে ২৪ হাজার ২০টি, ভুরুঙ্গামারীতে ১৩ হাজার ৯৮৫টি, ফুলবাড়ীতে নয় হাজার ২৯৮টি, রাজারহাটে ১০ হাজার ৬০২টি, উলিপুরে ২৪ হাজার ২০৮টি, রৌমারীতে ১২ হাজার ৬৮৫টি ও রাজীবপুর উপজেলায় চার হাজার ৭৩৮টি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চাল বিক্রির জন্য জেলায় ২৪৭ জন সম্ভাব্য ডিলারের মধ্যে ১২৬ জনকে ইতোমধ্যে নিযুক্ত করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাফর আলী বলেন, দারিদ্র বিমোচনের জন্য নেয়া নতুন কোনো কর্মসূচি হাতে নিলে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম থেকেই তার উদ্বোধন করেন। এর আগে ২০১০ সালে ন্যাশনাল সার্ভিস চালু করেছিলেন কুড়িগ্রাম থেকেই। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কুড়িগ্রাম থেকেই শুরু করছেন। এটা কুড়িগ্রামের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসারই অংশ।  

এএম/আরআইপি