ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পুঁজি সংকটে চামড়া কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ০৩:০৫ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬

ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার হাট যশোরের রাজারহাটের ব্যবসায়ীরা নানা সংকটে পড়েছেন। এখানকার ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মালিকদের কাছে গত বছরের বকেয়া বাবদ প্রায় ১০ কোটি টাকা এখনও বুঝে পাননি। আবার চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে কোনো ঋণও পাননি তারা।

এছাড়া স্থানীয় বাজারের চেয়ে সংশ্লিষ্টরা গরু ও ছাগলের চামড়ার দাম কম নির্ধারণ করায় তারা বিপাকে পড়েছেন। ফলে কুরবানির চামড়া কেনা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন এখনকার দুই শতাধিক ব্যবসায়ী।

যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফ আলী জানান, গত বছর কুরবানি ঈদের আগে ট্যানারি মালিকদের কাছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পুঁজি আটকা পড়েছিল। সে কারণে তারা সেবার ঠিকভাবে চামড়া কিনতে পারেননি। এবারও তাই হতে চলেছে। সামনে আর মাত্র ঈদের ২ দিন বাকি আছে। এখনও তারা গত বছরের চামড়ার প্রায় ১০ কোটি টাকা ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পায়নি।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার পরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম হল যশোরের রাজারহাট। সপ্তাহে দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে। যশোর ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে হাজির হয় এই হাটে। রাজারহাটের এই চামড়া হাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান। দুই শতাধিক আড়ত রয়েছে এই মোকামে।

প্রতি কুরবানির ঈদে রাজারহাটে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়ে থাকে। কিন্তু এখানকার ব্যবসায়ীরা প্রতিবারের মতো এবারও চামড়া ক্রয় করাকে ঘিরে সংকটে পড়েছেন। তারা নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করে চামড়া ক্রয় করে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করলেও গত এক বছরেও বকেয়া ১০ কোটি টাকা বুঝে পাননি। অথচ চামড়া কেনার জন্য ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ না দিয়ে দেয়া হয় ট্যানারি মালিকদের।

এদিকে, এই সংকটের বাইরে স্থানীয় বাজারের চেয়ে চামড়ার দাম কম নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্টরা। এবার ট্যানারি মালিকরা গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪০ টাকা আর ছাগলের নির্ধারণ করেছেন ২০ টাকা। অথচ শনিবার হাট ঘুরে দেখা গেছে, রাজারহাটে গরুর ভালো চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। নিম্নমানের চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ফলে সীমান্তের চোরাই পথে চামড়া পাচারের আশঙ্কা রয়েছে।

যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, স্থানীয় বাজার মূল্য থেকে দাম বেশি পাওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বেছে নেয় সীমান্তের চোরাই পথ। এর প্রভাব পড়ে রফতানিযোগ্য এই শিল্পের উপর। তবে সীমান্ত দিয়ে যাতে ভারতে কোনো ভাবেই চামড়া পাচার না হয় এজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়কে জানিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর।

বাংলাদেশ বর্ডার গাড (বিজিবি) যশোরের কমান্ডিং অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মেজর মোহাম্মদ লিয়াকত বলেন, চামড়া পাচার প্রতিরোধে সীমান্তের সব বিওপি ক্যাম্পগুলোকে অধিক সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মিলন রহমান/এসএস/এমএস

আরও পড়ুন