ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নির্মাণাধীন স্কুলের ছাদ ধসে আহত ২

প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬

কুড়িগ্রামে নির্মাণাধীন একটি স্কুল ভবনের ছাদের একাংশ ধসে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ সময় ঠিকাদার গোলাম মোস্তফাকে বিদ্যালয় কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে উত্তর কুমরপুর আবিরের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন দ্বিতল ভবনের ছাদের একাংশ ভেঙে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে স্কুল ছেড়ে বাড়িতে চলে যায়। ফলে স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

আহতরা হলেন, দুলাল মিয়া (৩০) ও সমিনুর রহমান (১৮)। তাদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুলাল মিয়ার কোমর ও হাত ভেঙে যায় এবং সমিনুরের মাথা ফেটে গেছে।

স্কুল ভবনে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে অভিযোগ করে স্থানীয়রা বলেন, ছাদ ঢালাই দেবার সময় নিম্মমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। কাউকে আশপাশে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে নাকি রড ব্যবহার করা হয়েছে তারাই ভালো জানেন।   

ভবনের ছাদ ঢালাই চলাকালীন আরো একবার ভেঙে পড়েছিল। তারপরও মানসম্পন্ন জিনিস ব্যবহার করেনি তারা। ছাদ ঢালাইয়ের সময় লোকাল বালু ব্যবহার করেছে আর সিমেন্টের পরিমাণ একদম কম ছিল। ছাদে তিন সুতি রড ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেক অভিভাবক বলেন, নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে কাজ হওয়ায় নির্মাণাধীন ছাদ ভেঙে পড়েছে। মানসম্পন্নভাবে স্কুল তৈরি করা না হলে আমাদের সন্তানদের স্কুলে আসতে দেব না। এর চেয়ে বড় কোন ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে।
    
শ্রমিক সমিনুরের মা মঞ্জু বেগম বলেন, ছাদ ভাঙার খবর শুনে দৌঁড়ে আসি। দেখি আমার ছেলের মাথা ফাটছে। এই নিয়ে কথা বললে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওসমান গণির ছেলে আশরাফ আলী আমাকে সবার সামনে চড়-থাপ্পড় মেরে চলে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার লোকজন আশরাফের স্ত্রী বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও ঠিকাদার গোলাম মোস্তফাকে প্রায় দু’ঘন্টা রুমে তালাবদ্ধ করে রাখে।

ঠিকাদার গোলাম মোস্তফা বলেন, এলজিইডি কর্তৃক এক বছরের মধ্যে ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে স্কুলের ভার্টিক্যাল এক্সটেনশনের কাজ করা হচ্ছে। ভবনের বাহির অংশে তিনদিন আগে ঢালাই দেয়া হয়। শ্রমিকরা না বুঝে বাঁশের খুঁটি সরিয়ে ফেললে ছাদ ধসে পড়ে।

সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কাজল কুমার সরকার জানান, বিষয়টি আমরা দেখেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

ভোগডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছাদ ধসের ঘটনায় স্কুলে অদ্ভুত পরিস্থিতির তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নাজমুল হোসেন/এএম/পিআর