দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা নোয়াখালীতে
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে আর কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে নোয়াখালীতে এবারো শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে চলছে ব্যাপক আয়োজন। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীতে প্রতি বছরের মতো এবারো দেশ সেরা ও ব্যয় বহুল পূজার আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছে মণ্ডপগুলো। তৈরি করা হচ্ছে দেবী দুর্গার ৭১ ফুট দীর্ঘ প্রতিমা।
সরেজমিনে চৌমুহনীতে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কারিগরদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছে পুজোর মণ্ডপ তৈরির কাজে নিয়োজিত কারিগর ও তাদের সহযোগীরা। এখানে প্রতিমার চেয়ে বিভিন্ন আদলে তৈরি করা মণ্ডপগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এক একটি মণ্ডপ তৈরিতে বিগত সময়ে বাজেট ছিল ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। এবার তার চেয়ে বেশি বাজেট করা হয়েছে। তবে দেবী দুর্গার ৭১ ফুট দীর্ঘ প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাজেট দেয়া হয়েছে। এ কাজ করছেন বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির। বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার তারা দেশসেরা ৭১ ফুট দীর্ঘ প্রতিমা তৈরি করে সেরা হওয়ার চেষ্টা করছেন।
চৌমুহনী কলেজ রোডের রামেন্দ্রসাহার বাড়ির সামনে বিশাল আকারের ৭১ ফুট দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত দেখা গেছে কারিগরদের। নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে সবাই ব্যস্ত। দিনে-রাতে সমান তালে চলছে কাজ। দম ফেলার সময় নেই। কেউ কাঠ কাটছেন, কেউবা বাঁশ। আবারে কেউ মাটি ও সিমেন্ট দিয়ে দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমার অবয়ব তৈরি করছেন। এভাবে কোন না কোন কাজে ব্যস্ত সবাই।20160923165359.jpg)
৭১ ফুট দীর্ঘ দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছেন শরীয়তপুর থেকে আসা প্রতিমা কারিগর অমল কৃষ্ণ পাল। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, গত ২০ বছর ধরে তিনি নোয়াখালীতে প্রতিমা তৈরির কাজ করলেও এবারই তিনি এই বিশাল আকারের প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন।
১৯৭৪ সালে ছাত্রজীবন থেকে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করলেও এটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রতিমা তৈরি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এর আগে বাংলাদেশের কোথাও এতো বড় দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়নি। ১২ জন সহযোগী ও কারিগর নিয়ে গত আড়াই মাস ধরে এ কাজ করছেন তিনি। পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা তৈরি করতে পূজার আগ দিন পর্যন্ত লেগে যাবে বলে তিনি জানান তিনি।
বিজয়া বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কোষাধ্যক্ষ রনি সাহার সঙ্গে কথা হয় এ আয়োজন নিয়ে। তিনি জানান, ভারতের দেশ প্রিয় পার্কে গত বছর ৮৭ ফুট দীর্ঘ প্রতিমা তৈরি করা হলেও বাংলাদেশে এই প্রথম ৭১ ফুট দেবী মায়ের প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। এ বিশাল প্রতিমা তৈরি করার মধ্যে দিয়ে সারাবিশ্বে প্রমাণ করা হবে এদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তাছাড়া প্রতি বছর বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের পক্ষ থেকে তারা আলাদা কিছু কারার চেষ্টা করেন। সে আলোকে এবার তাদের এই ভিন্নতা।
বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী শান্তনু সাহা জাগো নিউজকে জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো তাদের ৭১ ফুট দেবী দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে বাজেট ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে মণ্ডপ এবং লাইটিং খরচ রয়েছে। এছাড়া আরো অন্যান্য খরচও রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে তারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া পাচ্ছেন। তিনি আশা করেন দুর্গোৎসব উপলক্ষে তাদের আয়োজন শুধু নোয়াখালীতে নয় সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করবে এবং দেশের দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে মানুষ এটি দেখার জন্য আসবেন। তবে পূজোর শেষ দিন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের একান্ত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।20160923165533.jpg)
এদিকে এতো বড় দুর্গা মায়ের প্রতিমা তৈরির কাজ দেখার আগ্রয়ের কমতি নেই। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসছেন। দেখছেন কিভাবে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমা। আবার কেউ কেউ সেলফি তুলছেন।
এ সময় কথা হয় চৌমুহনীর ভিডিও এডিটিং বিষু নাথের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতি বছরই চৌমুহনীতে বিভিন্ন আদলে দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক পুরাকীর্তি অনুকরণে মণ্ডপ তৈরি করা হলেও এটি এবছর সবার চেয়ে আলাদা। ৭১ ফুট উঁচু দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করে বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রাখবে।
মিজানুর রহমান/এএম/আরআইপি