নাটোরে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বিপাকে মানুষ
নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী গ্রামের তানজির আহমেদ শাওন। তার জাতীয় পরিচয়পত্রে তানজির `আহমেদ` এর স্থলে তানজির `আগমেদ` এবং মায়ের নাম কাজী সুলতানা `রুলি`র স্থলে হয়েছে কাজী সুলতানা `রুনি`। এই ভুল সংশোধনীর জন্য নিয়মমাফিক আবেদন করে গত এক মাসেও তিনি ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধিত কপি হাতে পাননি।
শাওনের বাবা দুলাল সরকার বারবার যোগাযোগ করেও সংশোধিত ভোটার আইডি পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
লোচনগড় গ্রামের ওলিউল্লাহ। তিনিও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাচন অফিস তার আবেদন গ্রহণ করেনি। বলা হয়েছে, স্বশরীরে এসে আবেদন করতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন অফিসের কর্মচারীদের টাকা দিলেই দ্রুত কাজ হয়। না হলে আইনের নানা বেড়াজালে ভুক্তভোগীদের হয়রানির শিকার হতে হয়।
জানা যায়, প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে এসে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক ড্রাফট জমা দিয়েও দিনের পর দিন তাদের ঘুরতে হচ্ছে। উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিস থেকে বলা হচ্ছে, ঢাকা থেকে সংশোধন হয়ে না এলে আমাদের কিছু করার নেই।
তেবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম সুজন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে মানুষ। তাদের কাছে সংশোধন করতে আসা মানুষের পক্ষ থেকে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলে আবেদনকারীকে নিজে এসে আবেদন করতে হবে বলে বলা হচ্ছে। অথচ কিছু টাকা ধরিয়ে দিলে তখন আবার জমা নিয়ে কাজ করে দেয়ার অঙ্গীকার করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন অফিসের কিছু কর্মচারী এ ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করছেন। ফলে মানুষের হয়রানি আরও বাড়ছে।
গুরুদাসপুর উপজেলার খায়রুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য গত বৃহস্পতিবার জেলা নির্বাচন অফিসে আসলে তাকে বলা হয় যেহেতু তার ভুলটি হয়েছে ২০০৮ সালের জাতীয় পরিচয় পত্রে। এতদিনেও তিনি সংশোধন করেননি। এছাড়া তার শিক্ষাগত সনদপত্রে দেখা যাচ্ছে সেসময় তার বয়স ছিল মাত্র তের বছর। এরুপ ব্যক্তি ভোটার হতে পারেন না।
এখন আর কিছুই করার নেই। এরকম আরও দুই একটি আবদন তারা ঢাকায় পাঠিয়েছেন। কিন্তু ঢাকা অফিস থেকেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ভুলবশত সেসময় তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। ওই সময় তার বয়স ছিল আঠার বছরের নিচে। এরূপ ব্যক্তি ভোটার হতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনও কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় এরূপ তথ্য সংশোধন করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন অফিসে কোনো অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে সব ধরনের সেবাই দিতে চাই। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ঢাকা থেকে সংশোধিত হয়ে আসতে কিছু সময় লেগে যায়। এ অবস্থায় অনেকেই আমাদের ভুল বোঝেন।
জেলায় কী পরিমাণ আবদন পেন্ডিং রয়েছে এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে রোববার অফিস চলাকালীন আসলে তিনি তা জানাতে পারবেন।
নাটোর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, আবেদন প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা সংশোধনের জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেই। সংশোধিত হয়ে আসা মাত্র আমরা তা আবেদনকারীকে দিয়ে দেই। অহেতুক কাউকে হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়।
এফএ/এমএস