ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সেই শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নেয়া হলো

প্রকাশিত: ১১:৪৭ এএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

অলৌকিক ভাবে বেচেঁ যাওয়া সেই শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে হেলিকপ্টার যোগে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  

শিশুটির দাদা আবুল কালাম মিয়া বলেন, ফরিদপুর শিশু হাসপাতাল থেকে শিশু গালিবা হায়াতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু ওর শরীরের অবস্থা যা তাতে অ্যাম্বুলেন্সেও নেওয়ার উপায় নাই। তবে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা পরিবার নাকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করেছে তা জানা যায়নি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি এই হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাসহ শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য সকল পদক্ষেপ নিয়েছেন।

Faridpur

এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম মিয়া তার ছেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজনীনকে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিজিয়া আলমের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয়। তবে ওই মুহূর্তে ডা. রিজিয়া আলম সেবা না দিয়ে অন্য রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য চলে যান।

এ বিষয়ে আবুল কালাম মিয়া সাংবাদিকদের জানান, ভর্তি করার পর তার পুত্রবধূ প্রসব বেদনায় চিৎকার করতে থাকলেও এগিয়ে আসেননি ডা. রিজিয়া আলম। বারবার চিকিৎসককে ডাকা হলে সিট নেই বলে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর চিৎকারে কান না দিয়ে অন্য কাজে চলে যান ডা. রিজিয়া। পরে স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসকদের কক্ষে একাই কন্যাসন্তান প্রসব করেন নাজনীন।

স্বজনরা জানান, অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে বেরিয়ে রিজিয়া আলম প্রসূতির কান্না শুনে এগিয়ে এসে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর শিশুটিকে একটি কাগজের বাক্সে ভরে লাশ দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের চলে যেতে বলেন।

Faridpur

গত রাতেই নবজাতকটিকে কবর দেওয়ার জন্য শহরের আলীপুর কবরস্থানে নেওয়া হয়। তবে সেই সময় কবরস্থানে কবর দেওয়ার মতো কেউ না থাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে কবর দেওয়া হবে বলে কাগজের বাক্সটি রেখে দেন কবরস্থানের ইনচার্জ বিল্লাল শেখ।

শিশুর চাচা মোশাররফ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এসময় দায়িত্বরত মৌলভি কবরে শোয়ানোর জন্য বাচ্চার মাথা কোনদিকে, তা দেখতে বাক্সটি খোলেন। এসময় সে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। সেখান থেকে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ডা. রিজিয়া আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই নবজাতকের নাড়ির স্পন্দন (পালস) না পেয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু পরে ভোরে সেই শিশুটিকেই জীবিত দেখে অবাক হয়েছেন বলে জানান তিনি। এটিকে একটি মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি। 


তরুন/এমএএস/এমএস