ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘ইচ্ছা ছিলো দু’জনে সুখের ঘর বাঁধবো’

প্রকাশিত: ১১:২৮ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬

‘এ সমাজের মানুষ আমাদের ভালোবাসার স্বীকৃতি দিল না। ইচ্ছা ছিল দু’জনে সুখের ঘর বাঁধবো। কিন্তু পরিবারের লোকজন আমার ভালোবাসার মানুষটিকে মেনে নিতে পারলো না। তাই দুজনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ জীবনে দুজনের মিল না হলেও যেন পরজীবনে মিলন হয়। তাই আমরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলাম। আমাদের এ মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। মৃত্যুর পরে আমাদের দুজনের কবর যেন এক সঙ্গেই দেয়া হয়। এটাই সবার কাছে অনুরোধ’ প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যার আগে চিরকুটে এভাবেই কথাগুলো লিখেছিলেন প্রেমিকা আঁখি।

শনিবার রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার হঠাৎপাড়া মহল্লায় ওই প্রেমিক যুগল বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। তারা হলেন পৌর এলাকার আঁকচাডাঙ্গী এলাকার রশিদুল আলমের মেয়ে আঁখি (১৮) ও প্রেমিক সদর উপজেলা নারগুন কহরপাড়া আকিম উদ্দিনের ছেলে নুর নবী আকাশ (২৩)।

জানা যায়, সদর উপজেলা নারগুন কহরপাড়া এলাকার নুর নবী আকাশ দুই বছর আগে পৌর এলাকার হঠাৎপাড়া মহল্লায় বিয়ে করেন। শ্বশুরবাড়ি এলাকায় নিয়মিত আসা যাওয়ার সুযোগে আকচাডাঙ্গী এলাকার আঁখির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে নুর নবী আকাশ প্রেমিকা আঁখিকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেন। আঁখি বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হলে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

গতকাল শনিবার রাতে প্রেমিক যুগল একসঙ্গে মিলিত হয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নুর নবীর আগের বউ এ বিয়ে মেনে না নিলে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ সময় আঁখি একটি চিরকুটে আত্মহত্যার কারণ সবার লিখে যান।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার তারা নুর নবীর শ্বশুর বাড়ি হঠাৎপাড়ায় নুর নবীর বউকে বিয়ের কথা বললে তিনি রাজি হননি। পরে তারা সেখানে বিষপান করেন। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আঁখিকে মৃত ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে নুর নবী আকাশকে রংপুরে পাঠানো হলে পথিমধ্যে তারও মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন দুজনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব আঁখি ও নুর নবী আকাশের পরিবার মেনে না নেওয়ায় তারা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

মো. রবিউল এহসান রিপন/এএম/আরআইপি