দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশে ভরপুর চাঁদপুর
দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ইলিশে চাঁদপুরের মৎস্য আড়ৎ এখন ভরপুর। প্রতিদিন চাঁদপুরে আমদানি হচ্ছে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার মণ ইলিশ। ফিসিং ট্রলারে ও ট্রাকে আসা বরফ দেয়া ইলিশ আবার বরফ দিয়ে রফতানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি ভারতেও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব ইলিশ মাছের অধিকাংশই আধা পঁচা হয়ে গেছে। অনেক ইলিশের অংশ বিশেষও পঁচে খুলে গেছে। প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আমদানিতে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে এক প্রকার আনন্দের বন্যা বয়ে চলছে। ইলিশের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এবং দাম কিছুটা কম হওয়ায় বৃহৎ এই মাছঘাটে এখন দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় মুখরিত। তবে চাঁদপুরে নদীর ইলিশ নেই বললেই চলে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জাগো নিউজকে জানান, বর্তমানে যে পরিমাণ ইলিশ মাছ আমদানি হচ্ছে তার বিপরীতে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার কেইন বরফের প্রয়োজন কিন্তু সে পরিমাণ বরফ পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। বরফ সঙ্কটে অনেক ইলিশ মাছ নরম হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মাছের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আনা মাছ ব্যবসায়ীরাসহ স্থানীয় আড়ৎদাররা।
চাঁদপুর বড় রেলস্টেশন মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ট্রলারযোগে ও ট্রাকে ছোট-বড় সাইজের প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ ঘাটে নামানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মাছের বড় বড় স্তুপ দিয়ে দাম হাঁকছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা এসে মাছের আড়ৎ থেকে শত শত মণ মাছ ক্রয় করে বরফ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে প্যাকেট করে রফতানির জন্য বাক্সভর্তি করছেন। এসব বাক্স ভর্তি ইলিশ বড় ট্রাক যোগে এবং ট্রেনে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও ভারতে যাচ্ছে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জাগো নিউজকে আরো জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইলিশ আমদানি অনেকাংশে বেড়ে গেছে এবং দামও অনেক কম।
বর্তমান বাজারে অবস্থান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজান মণ ইলিশ মাছ আমদানি হচ্ছে চাঁদপুর বড় স্টেশন বৃহৎ এই মাছ ঘাটে। ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম মণ প্রতি ৩০ হাজার টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা। যা কেজি হিসেবে মূল্য ৮শ’ টাকা থেকে এক হাজার টাকা। ৭শ’ গ্রাম থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১৮শ’ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা যা কেজি প্রতি ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। এছাড়া ৪শ’ থেকে ৭শ’ গ্রামের ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১৩ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ৪শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়াসহ পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে চাঁদপুরের নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে একেবারেই কম।
তিনি আরো জানান, আমদানিকৃত ইলিশগুলো দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসলেও ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে তা চলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম, সিলেট. গাজীপুর, উত্তরবঙ্গ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়।
ইকরাম চৌধুরী/এআরএস