ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নওগাঁয় প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে

প্রকাশিত: ০২:৫১ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা। ইতোমধ্যে প্রতিমার প্রায় সত্তর ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে শুরু হবে রং তুলির আঁচড়ের খেলা। তুলির আঁচড়ে ফুঁটিয়ে তোলা হবে প্রতিমার নাক মুখসহ পূর্ণ অবয়ব।

কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, পাট দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিমা। শহরের কালিতলা পুজামণ্ডপ, কাঠহাটি, তপোবন স্কুল, পার-নওগাঁ বারোয়ারী পূজামণ্ডপ, জেলা প্রশাসনের কালেক্টর চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে দিনরাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর। পূজামণ্ডপগুলো ধুয়ে মুছে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন চলছে তোরণ তৈরির।

শহরের ঘোষপাড়া এলাকার প্রতিমা তৈরির কারিগর গোজেন পাল জানান, বংশ পরম্পরায় প্রতিমা তৈরি করছেন। এ বছর ১০টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রতিটি প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ফিনিশিংয়ের কাজ। দুই-এক দিনের মধ্যে রং ও তুলির কাজ শুরু হবে।

তিনি আরো জানান, তিন ধরনের কাঠামো অর্থাৎ এক কাঠামো, তিন কাঠামো একং পাঁচ কাঠামোতে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে তিন কাঠামোর প্রতিমার দাম বেশি হয়ে থাকে। এক কাঠামোর দাম হয়ে থাকে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার, তিন কাঠামোর দাম হয়ে থাকে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার একং পাঁচ কাঠামোর দাম হয়ে থাকে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। তারপরও ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

শহরের কালীতলা এলাকার কারিগর সাগর পাল জানান, প্রতিমা তৈরির সরঞ্জাম ও শ্রমিক খরচ বেড়ে গেছে। প্রতিমা তৈরিতে খরচ যা বৃদ্ধি পেয়েছে গত বছরের তুলনায় সামান্য কিছু লাভ থাকবে। অর্ডার নেয়া প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ। অনেকে প্রতিমা নিয়ে গেছেন। বাকীগুলো এখন মণ্ডপে দেয়ার অপেক্ষা। তবে দম ফেলার একদম ফুসরত নেই।

বুড়ি মা শিল্পালয়ের কারিগর নন্দ দুলাল জানান, এ বছর ১২টি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। এই ১২টির মধ্যে রাজশাহীতে তিনটি এবং বগুড়ায় দুই মণ্ডপে যাবে। বাকি ৭টি জেলা সদরসহ অন্যান্য উপজেলায় যাবে। তিনি সাধারণত বড় প্রতিমাগুলো তৈরি করে থাকেন। এতে যে টাকা পেয়ে থাকেন তাতে বেশ লাভ থাকবে। তবে ছবি দেখে তৈরি প্রতিমার খরচ ক্রেতাদের বেশি গুণতে হয়।

Durga

নওগাঁ পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি নির্মল কৃষ্ণ সাহা জানান, সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে প্রতি বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ বছরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এবার জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। এ বছর ৭৪১টি পূজা মণ্ডপে দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বিপিএম, পিপিএম জানান, মণ্ডপে পুলিশ, আনসার বাহিনী নিরাপত্তায় দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। এর পাশাপাশি পুলিশিং কমিউনিটি কমিটির লোকজন এ কাজে সম্পৃক্ত থাকবে। এছাড়া র্যাব বাহিনীও তৎপর থাকবে।

আব্বাস আলী/এসএস/আরআইপি