ঝিকরগাছায় ১৬ বছরেও নির্মিত হয়নি পল্লী বিদ্যুতের ভবন
যশোরের ঝিকরগাছায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব ভবন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। ভাড়া করা দোতলা ভবনের তিন কক্ষ বিশিষ্ট বিল্ডিংয়ে গাদাগাদি করে চলছে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম।
সরেজমিনে ঝিকরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঝিকরগাছা জোনাল অফিস পালপাড়া গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কক্ষে ৩-৪ টি করে টেবিল। ডিজিএম’র কক্ষটি ছোট হওয়ায় সেখানে অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এজিএম কম ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের টেবিল একই কক্ষে।
তিনজন ওয়্যারিং পরিদর্শকসহ একই কক্ষে ৪টি টেবিল। বারান্দায় অনুসন্ধান টেবিলের সামনের ভিড় সামলানো কঠিন। উপরের বিলিং সুপারভাইজার ও সহকারী বিলিং সুপারভাইজাররা গাদাগাদি অবস্থায় কাজ করে যাচ্ছেন।
এছাড়া অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনফরমেশনের কো-অর্ডিনেটর ও লাইন টেকনিশিয়ানদের অবস্থাও একই। ফলে তীব্র ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অফিসের কর্মকর্তারা। গ্রাহকরাও তাদের প্রকৃত সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকে ভিড় দেখে পিছু হাঁটছেন। দ্রুত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব সম্পদের ওপর ভবনের দাবি গ্রাহকদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝিকরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কৃষ্ণনগর ওয়াপদাহ মাঠে ৪ একর ৯১ শতক জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর দোতলা একটি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। কয়েকবছর আগে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃক ওই জমির ওপর (ফিডার/সাবস্টেশন) তৈরি করা হয়েছে। যার চারপাশে ইলেকট্রিকের বাতিলপুল দিয়ে সীমানা করা রয়েছে। ওই সম্পত্তির ওপর বিল্ডিং তৈরি করার জন্য ২০০০ সালে তৎকালীন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম উদ্বোধন করলেও আজ অবধি সেখানে বিল্ডিং তৈরি হয়নি।
ফলে ভাড়া করা বিল্ডিংয়ে চলছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যাবতীয় কার্যক্রম। গত এক যুগে তিনবার অফিস পাল্টানো হয়েছে বলে জানা যায়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও উন্নয়ন হয়নি সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ের। এমন অভিযোগ স্থানীয়দেরও।
এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, অফিসের নিজস্ব ভবন না থাকায় অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার গ্রাহকের সেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। নিজস্ব সম্পত্তির উপর ভবন ও প্রাচীর তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কার্যত কোনো সমাধান হয়নি।
মো. জামাল হোসেন/এএম