মাটির কাজ শেষ চলছে রং তুলির আঁচর
আর মাত্র ক’দিন পরই শান্তির বার্তা নিয়ে মর্ত্যালোকে আসছেন দেবী দুর্গা। এ উপলক্ষে নাটোরের মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রস্তুতি। দম ফেলার যেন সময় নেই প্রতিমা শিল্পী ও কারিগরদের। প্রতিমার মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে রং তুলির আঁচর।
জেলা প্রশাসন ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, এবার জেলায় ৩৪৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব হবে। পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোড়ায় চড়ে। যাবেনও ঘোড়ায়। আর মাত্র ক’দিন পরই বোধনের মধ্য দিয়ে মন্দিরে স্থাপিত হবে দুর্গা প্রতিমা। শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। তাই সামান্য অবসর নেই এখন প্রতিমা শিল্পী আর কারিগরদের।
নাটোরের প্রতিমা শিল্পী সুকুমার পাল, প্রদীপ কর্মকার ও তাদের সহযোগী কারিগররা জানান, সময় যেহেতু আর নেই তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবিরাম কাজ করে চলেছেন তারা। পরিবারের অন্যরাও এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছেন। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমার মাটির কাজ শেষে রং তুলির আঁচরে প্রতিমাগুলো জীবন্ত করে তুলছেন তারা। এসব প্রতিমার কিছু থাকবে নাটোরে। কিছু চলে যাবে জেলার বাইরে। এখানকার একেকটি প্রতিমার মূল্য ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নগেন রায় জানান, এবার জেলায় মোট ৩৪৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৭০টি, নলডাঙ্গায় ৫২টি, বড়াইগ্রামে ৪৬টি, গুরুদাসপুরে ৩৩টি, লালপুরে ৪০টি, বাগাতিপাড়ায় ৪৯টি ও সিংড়ায় ৮৩টি।
নাটোর সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরই নাটোরে সার্বজনীনভাবে দুর্গোৎসব উদযাপন করা হয়। সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এ উৎসব প্রাণের উৎসবে রূপ নেয়। তাই সব ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিমা তৈরি থেকে বিসর্জন পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আতিয়ুর রহমান জানান, এবার জেলায় ৩৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। যাতে কোনো প্রকার সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপের নেতাদের এ ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রেজাউল করিম রেজা/এমএএস/আরআইপি