ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উৎসবের নগরী হবে কক্সবাজার

প্রকাশিত: ১১:৩৪ এএম, ০২ অক্টোবর ২০১৬

এখন ক্ষণগণনা শুরু করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আর মাত্র চারদিন পর দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে ৭ অক্টোবর মহাপঞ্চমীর মাধ্যমে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ইতোমধ্যে শেষের পথে রয়েছে সকল প্রস্তুতি।

রংয়ের শেষ আস্তরণ লাগানো হচ্ছে মণ্ডপের জন্য নির্মিতব্য প্রতিমার গায়ে। ধর্ম-বর্ণ সকল সম্প্রদায়ের সম্মিলনে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারো দুর্গাপূজায় উৎসবের নগরী হবে পর্যটন শহর কক্সবাজার। চারদিকে থাকবে প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন কমিটি নেতারা।

কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে রোববার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড. রণজিত দাশ বলেন, গতবারের চেয়ে এবার ১০টি পূজামণ্ডপ বেড়ে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৬টিতে। তার মাঝে ১৩২টি প্রতিমা আর ১৫৪টি হবে ঘট পূজা। এসব পূজামণ্ডপের বিপরীতে সরকারি বরাদ্দ মিলেছে ১৪৩ মেট্রিক টন চাল। এছাড়া জেলা পরিষদ থেকে দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা।

খরচের তুলনায় যা অতিনগণ্য। তার মতে, গত দু-তিন বছরের তুলনায় সাজসজ্জা ও লাইটিংসহ পূজায় খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ফলে পূজার আয়োজকদের সব কিছু ম্যানেজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। খরচ বাড়লেও পূজার প্রস্তুতির কমতি নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজার শহরের সরস্বতী বাড়ির মৃৎশিল্পী নেপাল ভট্টাচার্য (৭৭) বলেন, দুই মাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করে শেষ পর্যন্ত ২৮টি প্রতিমা সেট তৈরি সম্পন্ন করা গেছে। বাকি কেবল রংয়ের শেষ আঁচড়। পাঁচ বছর আগে যে প্রতিমা সেট তৈরি করতে ২০ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন সেই প্রতিমা তৈরি করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।

সারা বছরে একটি সময়ই প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে আসে। এখন খরচ বেশি, লাভ কম হওয়ায় পুষিয়ে উঠা কষ্টকর হয়ে উঠছে। তাই এ পেশায় নতুন করে কেউ আসতে চাচ্ছেন না।

শহরের ঘোনারপাড়া দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন পাল বলেন, আগে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করতে খরচ নিতো এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা। গত বছর থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা নিচ্ছে মৃৎশিল্পীরা। এ বছর প্রতিমা সেট তৈরির জন্য নিচ্ছেন আড়াই লাখ টাকা থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত। ফলে এবার সবকিছু মিলে একটি মণ্ডপে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ হতে পারে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা বলেন, আগামী ৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী দেবীর বোধনের মধ্যদিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ১১ অক্টোবর বিসর্জনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজা থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে বেঁজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাঁসার শব্দ। এবার দেবীর আগমন ও প্রস্থান হবে ঘোড়ায় চড়ে।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারের দুর্গাপূজা একটি স্বার্বজনীন অনুষ্ঠানে রূপ পেয়েছে। যুগ যুগ ধরে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টান সবাই প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে সৈকতের বালিয়াড়িতে মিলিত হয়। পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সব ধর্মের নারী-পুরুষ, যুবা সবাই মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে সনাতনীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আসে। এবারো এর ব্যতিক্রম হবে না।

তবে কিছুদিন আগে জেলার ১০টি পূজা মণ্ডপে হামলার উড়োচিঠি দেয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এরপর সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা এরপরও একটি শঙ্কা অজান্তে কাজ করছে। সবাই সচেষ্ট থাকলে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম হবে না।  

মতবিনিময় সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা প্রিয়তোষ পাল পিন্টু, সহ-সভাপতি রতন দাশ, যুগ্ম-সম্পাদক দীপক শর্মা দিপু, সদর উপজেলা সভাপতি দীপক দাশ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বাপ্পী শর্মা, পৌর সভাপতি চন্দন কান্তি দাশ, সম্পাদক স্বপন গুহ, জেলা কমিটির সদস্য বিপ্লব মল্লিক, বলরাম দাশ অনুপম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, জঙ্গি হামলার ‘আতঙ্ক’ কাটাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি মুসলমান ভাইয়েরাও সনাতনীদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পাশে থাকায় বিজয়া দশমীতে দেশের সর্ববৃহৎ বিসর্জনের স্থান হবে সৈকতের বালিয়াড়ি। এখানে এক সঙ্গে জেলার প্রতিমাগুলোর পাশাপাশি বান্দরবান ও লোহাগাড়া থেকেও প্রতিমা আনা হবে। লাখো মানুষের সম্প্রীতির মিলন মেলায় পরিণত হবে বিজয়া দশমী। সবাইকে প্রতিমা বিসর্জন উপভোগ করতে আমন্ত্রণ জানান পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারো শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিদ্ধমান থাকছে।

পূজাসহ বিসর্জন শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মন্দির এবং সৈকত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা বলয় থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ।

সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/এবিএস