ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চাহিদা বেড়েছে এমদাদুলের পিতলের রুলিবালার

প্রকাশিত: ০৩:৫৮ এএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৬

অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য এমদাদুল হক (৪০)। গ্রামের বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা সদরের রনসিঙ্গার গ্রামে। বরকত আলী শাহর পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড় এমদাদুল হক। নবম শ্রেণিতে পড়াশুনা অবস্থায় ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন তিনি। সফলতার সঙ্গে চাকরি জীবন শেষে ২০১৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

যুবক বয়সে অবসরে একঘেয়েমি এবং পেনশনের উপর নির্ভরশীল হয়ে না থেকে কোনো একটা পেশার সঙ্গে নিজেকে জড়িত করার চিন্তা করেন। ঘনিষ্ঠজনের পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নিলেন পিতল দিয়ে রুলিবালা তৈরি করার। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে নাটোর, সৈয়দপুর ও পাবর্তীপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় গিয়ে পিতল দিয়ে নানা ধরনের কারুকার্য খচিত রুলিবালা তৈরির কাজ শিখেন। স্বামী-স্ত্রী দু’জন মিলে নিজ বাড়িতে প্রাথমিকভাবে কারখানা চালু করেন এবং নাম রাখেন ‘এমদাদ বালা ঘর’।

ঢাকা ও বগুড়া থেকে কিছু রুলিবালা তৈরির উপকরণ কিনে নিয়ে কারখানায় স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করেন। পিতল তৈরি কারুকার্য খচিত রুলিবালা স্বল্প দামে বাজারে বিক্রি হওয়ায় এবং ক্রেতার চাহিদা থাকায় মুনাফাও ভাল হয়। এলাকায় এখন ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।

রুলিবালার চাহিদার পরিমাণ এবং কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার পশ্চিম বালুভরা, খট্টেশ্বর, রনসিঙ্গার, রাণীনগর বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ ও বেকার যুবক-যুবতী তার কাছে রুলিবালা তৈরির কাজ শিখছেন।

Naogaon

এখন কারখানায় প্রায় ৬০ জনের মতো যুবক-যুবতী ও নানা বয়সের ছেলে মেয়েরা কাজ শিখছেন। এমদাদুল হক এখন এলাকায় রুলিবালা প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করছেন। অনেকে এখান থেকে কাজ শিখে নিজেই দোকান দিয়েছেন। পারিশ্রমিক নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা প্রতি মাসে প্রায় ৫/৬ হাজার টাকা আয় করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

নারী শ্রমিক সাবিনা আক্তার জানান, সংসারের সকল কাজ শেষ করে রুলিবালার কারাখানায় এসে কাজ করি। যে কোনো সময় এ কাজ করা যায়। এখান থেকে অর্জিত অর্থ সংসারের কাজে ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় খরচ করি। পাশপাশি স্বামীকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করি। রুলিবালা নকশার কাজ করে মাসে প্রায় ৪ হাজার টাকার মতো আয় হয়।

রুলিবালা কারখানার সত্ত্বাধিকারি এমদাদুল হক বলেন, রুলিবালা এলাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ায় সবার পক্ষে অলংকারের স্বাদ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। স্বর্ণের রং এবং পিতলের রং প্রায় সমান।

স্বর্ণের তৈরি অলংকার চুরি যাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। তবে রুবিবালা স্বল্প দামে ও কারুকার্য পছন্দ হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা বেশি। এলাকার নারী-পুরুষ ও বেকার যুবক-যুবতীরা তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই এখন কাজ করছেন। ফলে অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় তার তৈরি পিতলের রুলিবালা বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পিতলের রুলিবালা মানসম্পন্ন হওয়ায় বিভিন্ন শো-রুমের মালিকরা আগাম অর্ডার দিয়ে যান। প্রতি জোড়া রুলিবালা নকশা ও মান ভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রয় হয়। এই ব্যবসায় অনেক পুঁজি লাগে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আগামীতে রুলিবালা কারখানার কর্মপরিধি আরো প্রসার ঘটানো সম্ভব।

আব্বাস আলী/এসএস/পিআর