ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নির্বিচারে চলছে পাহাড় কেটে বসতবাড়ি নির্মাণ

প্রকাশিত: ০৮:৪৭ এএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৬

রাঙামাটিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। কাপ্তাই লেক থেকে শুরু করে পাহাড়, রাস্তা, সরকারি খাস জায়গা, ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা, রেকর্ডীয় জমিসহ ফাঁকা জায়গা পেলেই করা হচ্ছে রাতারাতি বেদখল। এভাবে শহরের সর্বত্র অব্যাহতভাবে চলছে জায়গা-জমি দখলের হিড়িক।

বেদখলকৃত জমিতে নির্বিচারে পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বসতবাড়ী। ফলে দিন দিন পরিবেশের ওপর পড়ছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। এত কিছু সত্ত্বেও নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন।
   
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি কোনো খাস বা পতিত জমি ছাড়াও ফাঁকা থাকলেই মালিকানাধীন রেকর্ডীয় জমি রাতারাতি চলে যাচ্ছে বেদখলের কবলে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নির্বিচারে পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বসতবাড়ি। এভাবে শহরে যত্রতত্র গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত বসতি।

বর্তমানে রেডিও স্টেশন এলাকা, শিমুলতলী ও টিভি ভবন এলাকায় রাতারাতি গড়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি। এর ফলে মারাত্মকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে শহরে। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘটে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা।
 
সরেজমিন ঘুরে শহরের রেডিও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, নির্বিচারে পাহাড় কেটে ঢালে ও খাদে নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকটি অবৈধ বসতবাড়ি। এলাকার লোকজনের কাছ থেকে খোঁজ নিলে তারা জানান, পাহাড়টির বেশির ভাগ জায়গা ব্যক্তি মালিকানাধীন।

মো. হোসেনের ছেলে আক্তার হোসেন ও আবছার হোসেন নামে দুই ভাই মিলে ব্যক্তি মালিকানার পাহাড়টি দখল করে সেখানে নির্বিচারে পাহাড় কেটে ৫টি বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন।
   
খোঁজাখোঁজির এক পর্যায়ে সাক্ষাৎ মেলে জায়গার মালিক মো. আমির আলীর সঙ্গে।

আলাপকালে জায়গার মালিক মো. খুইল্যা মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী মো. আমির আলী বলেন, তিনি শহরের তবলছড়ির মাস্টার কলোনি এলাকায় থাকেন। তার রেডিও স্টেশন সংলগ্ন জায়গায় কয়েক বছর আগে বসতঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেন মো. হোসেনের ছেলে আক্তার হোসেন ও আবছার হোসেনকে। এর সুবাদে তারা আমার জায়গাটি বেদখলে নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি অবৈধ বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে।
 
স্থানীয় লোকজন জানান, আক্তার ও আবছার মূলত ভূমিদস্যু। তারা ১০৫ নম্বর রাঙাপানি মৌজার ৬১৩ ও ৫৯৮ দাগের উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৫-২০ ফুট উচু পাহাড় কেটে অবৈধভাবে ৫টি বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। আর তারা কথায় কথায় বলেন আদালত নাকি তাদের পকেটে। টাকায় নাকি আদালতও কেনা যায়।
 
এদিকে জমির আসল মালিক আমির আলী দাবি করে বলেন, ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরুর পরে তারা আমার রেকর্ডীয় জায়গাটির মালিক সেজে জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া দলিলে বিক্রি শুরু করে। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকার জমি বিক্রি করে দিয়েছে আবছার ও আক্তার। এছাড়াও তারা আমার নামীয় জায়গায় পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করে বিভিন্ন প্রজাতির অনেকগুলো গাছ কেটে সাবাড় করেছে।

শহরের রিজার্ভবাজার চেঙ্গিমুখ, পুরাতন পুলিশ লাইন এলাকা, তবলছড়ির কেরানিপাহাড়, ওয়াপদা কলোনি, পর্যটন এলাকা, আসামবস্তি, ফিশারি বাঁধ এলাকা, শান্তিনগর, কৃষিফার্ম, লিচুবাগান, পাবলিক হেলথ এলাকা, ভেদভেদী, শিমুলতলী, টিভি ভবন ও মানিকছড়িসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় চলছে জমি দখলের মহোৎসব। বেহাত হয়ে যাচ্ছে প্রচুর জমি।

এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে বিষয়টি স্বীকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি) তানভীর আজম ছিদ্দীকি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ পেলে অবৈধ দখলদার এবং পাহাড় কাটার দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এফএ/এমএস