ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বদলগাছীতে ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে স্বজনপ্রীতি

প্রকাশিত: ১০:২৯ এএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৬

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নে সরকারের ‘খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির’ আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে দলীয়  নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এ কর্মসূচির তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড বিতরণে শুরু হয়েছে চালবাজি। তালিকায় হতদরিদ্রদের পরিবর্তে দলীয় নেতাকর্মী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সচ্ছল ও বিত্তবানদের নাম উঠেছে।

এ অবস্থায় প্রকৃত হতদরিদ্ররা প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার যারা চাল পাচ্ছেন তাদের ২-৩ কেজি করে ওজনে কম দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ টাকা কেজি দরে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। হতদরিদ্র পরিবারের ৯৯৪ জনের একটি তালিকা করে উপজেলা খাদ্য অফিসে দেয়া হয়েছে। তালিকা অনুসন্ধান করে দেখা যায়, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যাদের নামে কার্ড দেয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশ সচ্ছল, ইটের বাড়ি, বয়স্ক ভাতা ও ভিজিডিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং চাকরিজীবী। এদের মধ্যে অনেকেই ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আত্মীয়স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মী।

তালিকা অনুসন্ধান ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তালিকায় নাম রয়েছে এবং প্রথমবার চাল পেয়েছেন ১নং ওয়ার্ড ইউনিয়ন সদস্য হলুদ বিহার গ্রামের দেলোয়ার হোসেন দুলুর বাবা গিয়াস উদ্দিন এবং মা জাহেরা। গিয়াস উদ্দিনের বয়স্ক ভাতার কার্ড রয়েছে। আদমের রয়েছে ইটের পাকা বাড়ি এবং জমির পরিমাণ প্রায় ৬ বিঘা। মুক্তিযোদ্ধা আজিজারের তিন ছেলে চাকরি করেন। দলীয় নীতিতে কার্ড পেয়েছেন রিপন। তার ইটের বাড়ি এবং জমি রয়েছে প্রায় ১২ বিঘার মতো। কোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ফিরোজ আলম এবং দ্বীপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিয়া। আলেক সচ্ছল পরিবার এবং ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। বাবলু নিজেই চাকরিজীবী।

এছাড়া চাল পাওয়া সচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে, কাশিমালা গ্রামের বেগম, সানজিদা, উজ্জল, রাসেল, কিনা, আলাউদ্দিন, রশিদ, ফজলুরসহ কয়েকজন। যারা পারিবারিকভাবে সচ্ছল। অনেকের ইটের বাড়ি রয়েছে এবং চাকরিজীবী। দুধকুড়ি গ্রামের মানিক হোসেন ও নুরুজ্জামানের পরিবার সচ্ছল। তাদেরও ইটের বাড়ি রয়েছে।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছে একাধিক ভুয়া নাম। ভুয়া নামের কার্ডের ব্যক্তিদের এলাকাবাসী চেনেন না। তালিকায় যাদের একাধিক নাম রয়েছে তারা দু’বার চাল নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার যাদের নামে ভুয়া কার্ড আছে তাদের কার্ড নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসীয় জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা দলের পক্ষে কাজ করেছে তাদের নাম তালিকাবদ্ধ করে দলীয়ভাবে কার্ড দেয়া হয়েছে। অথচ হতদরিদ্ররা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যারা ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা তালিকা প্রণয়ন কারিদের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

NOAGA

এদিকে উপজেলার আধাইপুর ও মথুরাপুর ইউনিয়নে ডিলারদের বিরুদ্ধে চাল কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে তাদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হলে হতদরিদ্রদের পক্ষ হয়ে ডিলারের বিরুদ্ধে টাকা নেয়া ও চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ তোলেন। সব মিলিয়ে ১০ টাকা কেজি দরে চাল নিয়ে শুরু হয়েছে চালবাজি।

হলুদ বিহার গ্রামের হতদরিদ্র লুৎফর রহমান বলেন, জোড়াতালি দেয়া টিনের ছাপড়ার ঘরে থাকি। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি ও ছোট মেয়েকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়িয়েছি। অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ না করলে দিন চলে না। অথচ আমার মতো অনেকেই ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড না দিয়ে যারা চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পেছনে কাজ করেছেন তাদেরকে কার্ড করে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় শহীদুল ইসলাম জানান,  প্রকৃত হতদরিদ্রদের কার্ড না দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী এবং তাদের স্বজনদের দেয়া হয়েছে। ফলে যারা চাল পাওয়ার যোগ্য তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। আগের তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা প্রণয়নের দাবি করেন তিনি।

বিলাশবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কেটু বলেন, আমি বিরোধী দলের চেয়ারম্যান। দায়িত্বগ্রহণের পর এক হাজার জনের একটি তালিকা পেয়েছি। যেটা আগের চেয়ারম্যান তৈরি করেছিলেন। সেখানে তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে। কার্ড দেয়ার নামে তারা অনেকের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়েছেন বলেও জানি। তারা অনুরোধ করায় এই তালিকায় স্বাক্ষর করেছি। তবে তালিকা থেকে অধিকাংশ হতদরিদ্র ব্যক্তির নাম বাদ পড়ার বিষয়টি সত্য।   

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারজানা পপি বলেন, হতদরিদ্র পরিবার যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করেন উপজেলা পর্যায়ের সরকারি একজন কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য, সচিব এবং ট্যাগ অফিসার সভাপতি। তালিকায় যদি সচ্ছল পরিবার থাকে সেটির জন্য দায়ী ওই কমিটি। তবে তদন্ত কমিটি করে যাচাই করা হবে। সম্ভব হলে নতুন করে তালিকা তৈরি করা হবে।

আব্বাস আলী/এএম/এমএস